যেসব রুটে নিয়মিত যাত্রীচাহিদা বেশি, সেসব রুটের ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর মাধ্যমে একদিকে আসনসংখ্যা বাড়িয়ে যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ করা হবে, অন্যদিকে বেশি টিকিট বিক্রির মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন এ উদ্যোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিয়মিত যাত্রীচাপ বেশি থাকা আন্তঃনগর ট্রেনগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে কোচ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
চাহিদার তুলনায় আসন কম
রেলওয়ে সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন ব্যস্ত রুটে চলাচলকারী অনেক ট্রেনে আসনের তুলনায় টিকিটের চাহিদা বেশি। ছুটির দিন ও বিভিন্ন উৎসবের সময় এ চাপ আরও বেড়ে যায়। ফলে অনেক যাত্রী টিকিট না পেয়ে ট্রেনে ভ্রমণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে ট্রেনের ভেতরেও তৈরি হয় অস্বস্তিকর পরিবেশ। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন ট্রেন চালুর পরিবর্তে প্রথম ধাপে বিদ্যমান ট্রেনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে রেলওয়ে।
যেসব ট্রেনে নিয়মিতভাবে আসনের চেয়ে যাত্রীর চাহিদা বেশি, সেসব ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হবে। এতে তুলনামূলক কম সময়ে বিদ্যমান রেলসেবার পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে।
যাত্রী বাড়লে বাড়বে আয়ও
বাংলাদেশ রেলওয়ের আয়ের বড় একটি অংশ আসে যাত্রী পরিবহন খাত থেকে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেলওয়ের মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এর আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে মোট আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা।
এর মধ্যে যাত্রী পরিবহন খাত থেকেই আগের অর্থবছরের তুলনায় অতিরিক্ত ২৫৬ কোটি টাকা আয় হয়েছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, যাত্রীদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত কোচ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আসন দেওয়া সম্ভব হয় না। এতে সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হয় রেলওয়ে। তাই চাহিদাসম্পন্ন ট্রেনে কোচ বাড়ানো গেলে একই সঙ্গে যাত্রীসেবা ও আয়—দুই দিকেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কোচের ঘাটতিই বড় চ্যালেঞ্জ
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে কোচের স্বল্পতাকে। রেলওয়ের বহরে থাকা পুরোনো কোচের পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনেও বিভিন্ন সময় কিছু কোচ চলাচল থেকে সরিয়ে নিতে হয়।
ফলে যাত্রীচাহিদা অনুযায়ী সব ট্রেনে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ সমস্যা কাটাতে নতুন কোচ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নতুন কোচ বহরে যুক্ত হলে চাহিদাসম্পন্ন ট্রেনে আসন বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ট্রেন চালুর সুযোগও তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজস্ব বাড়াতে নেওয়া হচ্ছে আরও উদ্যোগ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রেলের বিভিন্ন বিভাগকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত মাসিক পর্যালোচনা সভায় আয় বাড়াতে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনগুলোকে স্ট্যান্ডার্ড কম্পোজিশন অনুযায়ী পরিচালনা, স্ক্র্যাপের দরপত্র দ্রুত নিষ্পত্তি, কমিউটার, লোকাল ও মেইল ট্রেন লিজ দেওয়ার উদ্যোগ এবং নবনির্মিত স্টেশনে দোকান বরাদ্দের বিষয় রয়েছে।
এ ছাড়া জয়দেবপুর কমিউটার, অভিযাত্রী কমিউটার ও সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের যাত্রীসংখ্যা ও আয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেলের ভূসম্পত্তি বিভাগের আয়ও হিসাব বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী পর্যালোচনা সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, কোন রুটে কী পরিমাণ যাত্রীচাহিদা রয়েছে তা বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট ট্রেনে অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা গেলে নতুন অবকাঠামো তৈরির তুলনায় দ্রুত যাত্রীসেবার সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে টিকিট বিক্রি বাড়িয়ে রেলের রাজস্ব আয়ও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
প্রতিবেদকের নাম 























