ঢাকা ০২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কালিয়াকৈরে ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, প্রেমিকার মৃত্যু, গ্রেপ্তার প্রেমিক সিইসির পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভ, রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ আটক ২৬০ আকিজ গ্রুপে অফিসার নিয়োগ, সঙ্গে প্রভিডেন্ট ফান্ড-গ্র্যাচুইটিসহ নানা সুবিধা দুদকে ৩ উপপরিচালকসহ ১২ কর্মকর্তার পদে রদবদল গোল ও জোড়া অ্যাসিস্টে রাঙানো বিদায়, শেষ হলো আর্জেন্টিনায় মেসি অধ্যায় তিন বছরেও গাজায় শান্তি অধরা, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়েছে সংঘাত শিক্ষক সংকট নিরসনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক পুলে আবেদনের সময় বাড়ল স্রোতে ফেরি বন্ধ, বারবার ভোগান্তিতে নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া নৌরুটের যাত্রীরা মেয়ের চাপে ১০ লাখ টাকার হেরোইন নিয়ে যশোর থেকে ঢাকায় ৬৫ বছরের মা ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা বন্ধ, কিউ-ক্যাশ কর্তৃপক্ষকে তলব
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

তারকাদের একের পর এক বিচ্ছেদ, সম্পর্ক নিয়ে বাড়ছে ভক্তদের অনিশ্চয়তা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১১:২৪:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ সময় দেখুন

তারকাদের প্রেম, বিয়ে ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে মানুষের আগ্রহ নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শোবিজ অঙ্গনে বিয়ের পাশাপাশি একের পর এক বিচ্ছেদের খবরও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে। কোনো তারকা জুটির সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা, নানা অনুমান ও পুরোনো স্মৃতি ফিরে দেখার প্রবণতা। সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মুনিরা হাশেমের নাম।

গত রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে যৌথ বিবৃতিতে নিজেদের বিচ্ছেদের খবর জানান প্রীতম ও শেহতাজ। দীর্ঘ ১০ বছরের সম্পর্কের মধ্যে চার বছর তারা সংসার করেছেন। হঠাৎ তাদের আলাদা হওয়ার খবর মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে অনেক ভক্তের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুটিটির বিভিন্ন আবেগঘন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে অনুরাগীরা স্মরণ করছেন তাদের একসঙ্গে কাটানো সময়।

চলতি বছরই বিচ্ছেদের খবর দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান এবং রোজা আহমেদ। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিয়ে করা এই দম্পতিকে ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরেই নানা ধরনের গুঞ্জন চলছিল। পরে তাহসান নিজেই বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানান, তারা বেশ কিছুদিন ধরে আলাদা থাকছিলেন। তবে বিচ্ছেদের কারণ প্রকাশ্যে আনেননি তিনি।

এরপর ২০২৬ সালের মার্চে অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ ও নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানার বিচ্ছেদের খবর সামনে আসে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিয়ে করেছিলেন তারা। বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করে মৌসুমী জানিয়েছিলেন, তখন এ বিষয়ে বিস্তারিত বলার মতো মানসিক অবস্থায় তিনি ছিলেন না।

এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালেও শোবিজে একাধিক বিচ্ছেদের ঘটনা আলোচনায় আসে। ওই বছরের জুনে সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কণা ও গোলাম মোহাম্মদ ইফতেখারের ছয় বছরের দাম্পত্যের সমাপ্তি ঘটে। বিচ্ছেদের বিষয়টি কণা নিজেই জানান।

আরও পড়ুনঃ  দেশে ৩ হাজার ৯৩৮ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৬২২

একই বছরের শেষ দিকে বিচ্ছেদের খবর আসে সংগীতশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমার সংসারে। ২০১৮ সালে আইনজীবী সানাউল্লাহ নূর সাগরকে বিয়ে করেছিলেন সালমা। ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর তাদের বিচ্ছেদ হয় বলে তিনি নিশ্চিত করেন। পরে তার সাবেক স্বামীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানান। তার ভাষ্য ছিল, পারস্পরিক মতের অমিল, চিন্তার পার্থক্য ও মানসিক দূরত্ব তাদের আলাদা হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও আরেকটি পুরোনো বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসে। অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু ও সংবাদপাঠিকা মমরেনাজ মোমোর সংসার ভেঙেছিল প্রায় ছয় বছর আগে। তবে তাদের বিচ্ছেদের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ওই বছরের শেষ দিকে।

২০২৪ সালেও শোবিজে বেশ কয়েকটি আলোচিত বিচ্ছেদ ঘটে। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি স্বামী রকিব সরকারের সঙ্গে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা জানান। ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়েছিল। একই বছরের জুলাইয়ে প্রায় সাড়ে নয় বছরের দাম্পত্যের অবসান ঘটান অভিনেতা আরিফিন শুভ ও অর্পিতা সমাদ্দার। তাদের বিচ্ছেদ ছিল পারস্পরিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।

এরও আগে আলোচনায় ছিল পরীমণি ও শরিফুল রাজের সম্পর্কের টানাপোড়েন। ২০২৪ সালে তাদের আলাদা থাকার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। বিচ্ছেদের পর সন্তানকে কেন্দ্র করে দুজনের যোগাযোগ নিয়েও বিভিন্ন সময়ে নানা খবর প্রকাশিত হয়।

তবে তারকাদের বিচ্ছেদের তালিকা এখানেই শেষ নয়। তাহসান-মিথিলা, নোভা-রায়হান, হাবিব-রেহান, শখ-নিলয়, বাঁধন-সনেট, হৃদয় খান-সুজানা এবং মিলা-পারভেজ সানজারির মতো পরিচিত জুটির সংসারও বিভিন্ন সময়ে ভেঙেছে। ফলে গত এক দশকে বিনোদন অঙ্গনে বিয়ে ও বিচ্ছেদ তারকাদের ব্যক্তিজীবনের অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

কেন তারকাদের বিচ্ছেদের খবর এতটা প্রভাব ফেলে

তারকাদের বিচ্ছেদের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বা অস্বস্তি তৈরি হওয়ার পেছনে মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নিউইয়র্কভিত্তিক সাইকোথেরাপিস্ট ক্যাথরিন শেফলার ‘টাইম’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক লেখায় এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের ছবি হোয়াইট হাউসের, দূতাবাসও শেয়ার করেছে: মাহদী আমিন

তার মতে, মানুষ অনেক সময় সেলিব্রিটি জুটিকে আদর্শ বা ‘পারফেক্ট’ দম্পতি হিসেবে কল্পনা করে। তাদের দেখে এমন ধারণাও তৈরি হয় যে সুন্দর একটি জীবন গড়তে ভালোবাসাই যথেষ্ট। কিন্তু ক্ষমতাবান, আকর্ষণীয়, সফল ও বিত্তবান তারকাদের সম্পর্কও যখন ভেঙে যায়, তখন সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে।

অবচেতনভাবে প্রশ্ন জাগে—যারা এত সফল ও নিখুঁত বলে মনে হয়, তারাই যদি সম্পর্ক ধরে রাখতে না পারেন, তাহলে নিজেদের সম্পর্ক কীভাবে টিকবে? ক্যাথরিন শেফলার মনে করেন, ভালোবাসা সম্পর্কের ভিত্তি হলেও দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্যের জন্য কার্যকর যোগাযোগ, প্রতিশ্রুতি, আর্থিক ঘনিষ্ঠতা ও পারস্পরিক আস্থার মতো বাস্তব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন গণমাধ্যম এনপিআরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও ব্রেকআপ কোচ ড. অ্যান্ড্রিয়া লাইনারও তারকাদের ব্যক্তিজীবন নিয়ে মানুষের অতিরিক্ত আগ্রহের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে তারকা ও ভক্তদের মধ্যে ‘প্যারাসোশ্যাল’ বা একপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। আগে তারকাদের জীবন সম্পর্কে জানার সুযোগ ছিল সীমিত, কিন্তু এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিজীবনের নানা মুহূর্ত সহজেই ভক্তদের সামনে চলে আসে।

লাইনারের ভাষ্য অনুযায়ী, তারকারা অনেক সময় মানুষের কাছে সাফল্য, সৌন্দর্য, অর্থ ও কাঙ্ক্ষিত জীবনযাপনের প্রতীক হয়ে ওঠেন। ফলে তাদের জীবনে বড় কোনো সমস্যা দেখা দিলে ভক্তদের একাংশ তা মেনে নিতে পারেন না। কারণ তাদের মনে ধারণা তৈরি হয়, জীবনে এত সাফল্য অর্জনের পরও যদি সম্পর্ক টেকে না, তাহলে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের ভবিষ্যৎই বা কতটা নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কারণেই তারকাদের বিচ্ছেদের খবর অনেক সময় মানুষের নিজের সম্পর্কের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।

আরও পড়ুনঃ  ‘আমি আওয়ামী লীগের না, হেলমেট পরব না’—প্রিজন ভ্যান থেকে আখতারুজ্জামান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কি বিচ্ছেদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে?

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল যোগাযোগের অতিরিক্ত ব্যবহারও বর্তমান সময়ে দাম্পত্য সম্পর্কে নতুন ধরনের চাপ তৈরি করছে।

কর্মব্যস্ততা কিংবা ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে অনেক দম্পতির মুখোমুখি কথা বলার সময় কমে যাচ্ছে। মেসেজিং অ্যাপ হয়ে উঠেছে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ভালোবাসার প্রকাশ থেকে শুরু করে অভিমান কিংবা তীব্র ঝগড়া—সবকিছুই অনেক সময় সীমাবদ্ধ থাকছে চ্যাটবক্সে। আবার মন খারাপ বা ক্ষোভের বিষয়ও কেউ কেউ প্রকাশ করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্ট্যাটাসে।

একজন আইনজীবী ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞের মতে, ডিজিটাল যোগাযোগের একটি বড় সমস্যা হলো—এর অনেক কিছুই স্থায়ীভাবে থেকে যায়। রাগের মুহূর্তে পাঠানো কোনো বার্তা বহু বছর পরও খুঁজে বের করা সম্ভব। কোনো পুরোনো মেসেজ বা ছবি হঠাৎ সামনে এলে অতীতের ভুল বোঝাবুঝি কিংবা কষ্ট আবারও নতুন করে মনে পড়তে পারে। সামনাসামনি তর্ক-বিতর্কের পর বিষয়টি ভুলে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও ডিজিটাল স্মৃতি অনেক সময় সেই ক্ষতকে ধরে রাখে।

এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য মানুষের সাজানো ও পরিমার্জিত জীবনের ছবি দেখে নিজের সম্পর্ক নিয়েও অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে। অন্যের জীবনের দৃশ্যমান অংশের সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবন তুলনা করতে গিয়ে হতাশা তৈরি হয়। একই সঙ্গে ভার্চুয়াল জগতে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে সহজ যোগাযোগের সুযোগ সম্পর্কের আস্থা ও বিশ্বাসের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

ফলে তারকাদের বিচ্ছেদের ধারাবাহিকতা শুধু বিনোদন অঙ্গনের খবর হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; তা সাধারণ মানুষের মধ্যেও সম্পর্ক, দাম্পত্য ও ভালোবাসার স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

কালিয়াকৈরে ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, প্রেমিকার মৃত্যু, গ্রেপ্তার প্রেমিক

তারকাদের একের পর এক বিচ্ছেদ, সম্পর্ক নিয়ে বাড়ছে ভক্তদের অনিশ্চয়তা

আপডেটের সময়: ১১:২৪:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

তারকাদের প্রেম, বিয়ে ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে মানুষের আগ্রহ নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শোবিজ অঙ্গনে বিয়ের পাশাপাশি একের পর এক বিচ্ছেদের খবরও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসছে। কোনো তারকা জুটির সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে এলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা, নানা অনুমান ও পুরোনো স্মৃতি ফিরে দেখার প্রবণতা। সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মুনিরা হাশেমের নাম।

গত রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে যৌথ বিবৃতিতে নিজেদের বিচ্ছেদের খবর জানান প্রীতম ও শেহতাজ। দীর্ঘ ১০ বছরের সম্পর্কের মধ্যে চার বছর তারা সংসার করেছেন। হঠাৎ তাদের আলাদা হওয়ার খবর মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে অনেক ভক্তের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুটিটির বিভিন্ন আবেগঘন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করে অনুরাগীরা স্মরণ করছেন তাদের একসঙ্গে কাটানো সময়।

চলতি বছরই বিচ্ছেদের খবর দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান এবং রোজা আহমেদ। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিয়ে করা এই দম্পতিকে ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরেই নানা ধরনের গুঞ্জন চলছিল। পরে তাহসান নিজেই বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানান, তারা বেশ কিছুদিন ধরে আলাদা থাকছিলেন। তবে বিচ্ছেদের কারণ প্রকাশ্যে আনেননি তিনি।

এরপর ২০২৬ সালের মার্চে অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ ও নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানার বিচ্ছেদের খবর সামনে আসে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিয়ে করেছিলেন তারা। বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করে মৌসুমী জানিয়েছিলেন, তখন এ বিষয়ে বিস্তারিত বলার মতো মানসিক অবস্থায় তিনি ছিলেন না।

এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালেও শোবিজে একাধিক বিচ্ছেদের ঘটনা আলোচনায় আসে। ওই বছরের জুনে সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কণা ও গোলাম মোহাম্মদ ইফতেখারের ছয় বছরের দাম্পত্যের সমাপ্তি ঘটে। বিচ্ছেদের বিষয়টি কণা নিজেই জানান।

আরও পড়ুনঃ  দেশে ৩ হাজার ৯৩৮ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, অতি ঝুঁকিপূর্ণ ৬২২

একই বছরের শেষ দিকে বিচ্ছেদের খবর আসে সংগীতশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমার সংসারে। ২০১৮ সালে আইনজীবী সানাউল্লাহ নূর সাগরকে বিয়ে করেছিলেন সালমা। ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর তাদের বিচ্ছেদ হয় বলে তিনি নিশ্চিত করেন। পরে তার সাবেক স্বামীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানান। তার ভাষ্য ছিল, পারস্পরিক মতের অমিল, চিন্তার পার্থক্য ও মানসিক দূরত্ব তাদের আলাদা হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও আরেকটি পুরোনো বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসে। অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু ও সংবাদপাঠিকা মমরেনাজ মোমোর সংসার ভেঙেছিল প্রায় ছয় বছর আগে। তবে তাদের বিচ্ছেদের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ওই বছরের শেষ দিকে।

২০২৪ সালেও শোবিজে বেশ কয়েকটি আলোচিত বিচ্ছেদ ঘটে। ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি স্বামী রকিব সরকারের সঙ্গে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তের কথা জানান। ২০২১ সালে তাদের বিয়ে হয়েছিল। একই বছরের জুলাইয়ে প্রায় সাড়ে নয় বছরের দাম্পত্যের অবসান ঘটান অভিনেতা আরিফিন শুভ ও অর্পিতা সমাদ্দার। তাদের বিচ্ছেদ ছিল পারস্পরিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।

এরও আগে আলোচনায় ছিল পরীমণি ও শরিফুল রাজের সম্পর্কের টানাপোড়েন। ২০২৪ সালে তাদের আলাদা থাকার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। বিচ্ছেদের পর সন্তানকে কেন্দ্র করে দুজনের যোগাযোগ নিয়েও বিভিন্ন সময়ে নানা খবর প্রকাশিত হয়।

তবে তারকাদের বিচ্ছেদের তালিকা এখানেই শেষ নয়। তাহসান-মিথিলা, নোভা-রায়হান, হাবিব-রেহান, শখ-নিলয়, বাঁধন-সনেট, হৃদয় খান-সুজানা এবং মিলা-পারভেজ সানজারির মতো পরিচিত জুটির সংসারও বিভিন্ন সময়ে ভেঙেছে। ফলে গত এক দশকে বিনোদন অঙ্গনে বিয়ে ও বিচ্ছেদ তারকাদের ব্যক্তিজীবনের অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

কেন তারকাদের বিচ্ছেদের খবর এতটা প্রভাব ফেলে

তারকাদের বিচ্ছেদের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বা অস্বস্তি তৈরি হওয়ার পেছনে মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নিউইয়র্কভিত্তিক সাইকোথেরাপিস্ট ক্যাথরিন শেফলার ‘টাইম’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক লেখায় এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের ছবি হোয়াইট হাউসের, দূতাবাসও শেয়ার করেছে: মাহদী আমিন

তার মতে, মানুষ অনেক সময় সেলিব্রিটি জুটিকে আদর্শ বা ‘পারফেক্ট’ দম্পতি হিসেবে কল্পনা করে। তাদের দেখে এমন ধারণাও তৈরি হয় যে সুন্দর একটি জীবন গড়তে ভালোবাসাই যথেষ্ট। কিন্তু ক্ষমতাবান, আকর্ষণীয়, সফল ও বিত্তবান তারকাদের সম্পর্কও যখন ভেঙে যায়, তখন সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে।

অবচেতনভাবে প্রশ্ন জাগে—যারা এত সফল ও নিখুঁত বলে মনে হয়, তারাই যদি সম্পর্ক ধরে রাখতে না পারেন, তাহলে নিজেদের সম্পর্ক কীভাবে টিকবে? ক্যাথরিন শেফলার মনে করেন, ভালোবাসা সম্পর্কের ভিত্তি হলেও দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্যের জন্য কার্যকর যোগাযোগ, প্রতিশ্রুতি, আর্থিক ঘনিষ্ঠতা ও পারস্পরিক আস্থার মতো বাস্তব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

মার্কিন গণমাধ্যম এনপিআরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও ব্রেকআপ কোচ ড. অ্যান্ড্রিয়া লাইনারও তারকাদের ব্যক্তিজীবন নিয়ে মানুষের অতিরিক্ত আগ্রহের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে তারকা ও ভক্তদের মধ্যে ‘প্যারাসোশ্যাল’ বা একপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। আগে তারকাদের জীবন সম্পর্কে জানার সুযোগ ছিল সীমিত, কিন্তু এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিজীবনের নানা মুহূর্ত সহজেই ভক্তদের সামনে চলে আসে।

লাইনারের ভাষ্য অনুযায়ী, তারকারা অনেক সময় মানুষের কাছে সাফল্য, সৌন্দর্য, অর্থ ও কাঙ্ক্ষিত জীবনযাপনের প্রতীক হয়ে ওঠেন। ফলে তাদের জীবনে বড় কোনো সমস্যা দেখা দিলে ভক্তদের একাংশ তা মেনে নিতে পারেন না। কারণ তাদের মনে ধারণা তৈরি হয়, জীবনে এত সাফল্য অর্জনের পরও যদি সম্পর্ক টেকে না, তাহলে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের ভবিষ্যৎই বা কতটা নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কারণেই তারকাদের বিচ্ছেদের খবর অনেক সময় মানুষের নিজের সম্পর্কের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ইইউ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কি বিচ্ছেদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে?

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল যোগাযোগের অতিরিক্ত ব্যবহারও বর্তমান সময়ে দাম্পত্য সম্পর্কে নতুন ধরনের চাপ তৈরি করছে।

কর্মব্যস্ততা কিংবা ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে অনেক দম্পতির মুখোমুখি কথা বলার সময় কমে যাচ্ছে। মেসেজিং অ্যাপ হয়ে উঠেছে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। ভালোবাসার প্রকাশ থেকে শুরু করে অভিমান কিংবা তীব্র ঝগড়া—সবকিছুই অনেক সময় সীমাবদ্ধ থাকছে চ্যাটবক্সে। আবার মন খারাপ বা ক্ষোভের বিষয়ও কেউ কেউ প্রকাশ করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্ট্যাটাসে।

একজন আইনজীবী ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞের মতে, ডিজিটাল যোগাযোগের একটি বড় সমস্যা হলো—এর অনেক কিছুই স্থায়ীভাবে থেকে যায়। রাগের মুহূর্তে পাঠানো কোনো বার্তা বহু বছর পরও খুঁজে বের করা সম্ভব। কোনো পুরোনো মেসেজ বা ছবি হঠাৎ সামনে এলে অতীতের ভুল বোঝাবুঝি কিংবা কষ্ট আবারও নতুন করে মনে পড়তে পারে। সামনাসামনি তর্ক-বিতর্কের পর বিষয়টি ভুলে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও ডিজিটাল স্মৃতি অনেক সময় সেই ক্ষতকে ধরে রাখে।

এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য মানুষের সাজানো ও পরিমার্জিত জীবনের ছবি দেখে নিজের সম্পর্ক নিয়েও অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে। অন্যের জীবনের দৃশ্যমান অংশের সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবন তুলনা করতে গিয়ে হতাশা তৈরি হয়। একই সঙ্গে ভার্চুয়াল জগতে অসংখ্য মানুষের সঙ্গে সহজ যোগাযোগের সুযোগ সম্পর্কের আস্থা ও বিশ্বাসের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

ফলে তারকাদের বিচ্ছেদের ধারাবাহিকতা শুধু বিনোদন অঙ্গনের খবর হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; তা সাধারণ মানুষের মধ্যেও সম্পর্ক, দাম্পত্য ও ভালোবাসার স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।