তুর্কমেনিস্তানের কারাকুম মরুভূমির দারবাজা গ্রামে রয়েছে এক বিশাল জ্বলন্ত গ্যাসগর্ত, যা দীর্ঘদিন ধরে ‘জাহান্নামের দরজা’ নামে পরিচিত। আগুনে জ্বলতে থাকা এই গর্তটি দেশটির অন্যতম আলোচিত পর্যটন আকর্ষণ।
দারবাজা অঞ্চলটি প্রাকৃতিক গ্যাসে সমৃদ্ধ। ১৯৭১ সালে সোভিয়েত ভূতত্ত্ববিদেরা সেখানে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধানে খননকাজ চালানোর সময় হঠাৎ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৭০ মিটার গভীর একটি গর্ত তৈরি হয় এবং খননযন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম গর্তের মধ্যে পড়ে যায়।
ভূমিধসের পর গর্ত থেকে বিপুল পরিমাণ মিথেন গ্যাস বের হতে থাকে। গ্যাসের কারণে আশপাশের পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব ঠেকাতে বিজ্ঞানীরা গ্যাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের ধারণা ছিল, কয়েক দিনের মধ্যেই গ্যাস শেষ হয়ে আগুন নিভে যাবে।
কিন্তু সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়। আগুন দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকে এবং ধীরে ধীরে দারবাজার এই গ্যাসগর্ত ‘জাহান্নামের দরজা’ নামে পরিচিতি পায়।
২০১০ সালে তৎকালীন তুর্কমেনিস্তানের প্রেসিডেন্ট গর্তটি পরিদর্শন করে আগুন নেভানো এবং সেখান থেকে গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। তবে গর্তটি পুরোপুরি বন্ধ করা ও আগুন নেভানোর বিষয়টি প্রযুক্তিগতভাবে বেশ জটিল বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
দীর্ঘদিন ধরে জ্বলতে থাকা এই গ্যাসগর্ত এখন তুর্কমেনিস্তানের অন্যতম পরিচিত পর্যটনস্থলে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রাতে আগুনের বিশাল শিখা ও মরুভূমির অন্ধকার পরিবেশ এটিকে একটি অনন্য দৃশ্যে পরিণত করে।
‘জাহান্নামের দরজা’ নামটি ধর্মীয় কোনো স্থানের পরিচয় নয়; এটি মূলত গর্তটির ভয়াবহ চেহারা ও দীর্ঘস্থায়ী আগুনকে ঘিরে তৈরি হওয়া একটি জনপ্রিয় উপাধি।
প্রতিবেদকের নাম 




















