চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতে মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা যেমন দেশের মানুষ ভালোভাবে নেয়নি, তেমনি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টাও কাম্য নয়। কোনো বিষয়ে বক্তব্য বা দাবি থাকলে তা সংসদে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বক্তব্য সংসদে তুলে ধরার আহ্বান
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা দেশের মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান নিয়েও কিছু মহল বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি গণতান্ত্রিক জনগণের প্রতি এই গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে সংসদ গঠিত হয়েছে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সেখানে পাঠানো হয়েছে। কারও কোনো বক্তব্য বা দাবি থাকলে তা সংসদে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করার লড়াইয়ে ধর্ম-বর্ণের কোনো বিভেদ ছিল না। বিভিন্ন ধর্ম, মতাদর্শ ও পেশার মানুষ একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে যখনই গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়েছে, তখনও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সব ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। ওই আন্দোলনের দৃশ্যেও বাংলাদেশের সব ধর্ম, মত ও পেশার মানুষের অংশগ্রহণ দেখা গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রত্যাশা
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের সম্মিলিত বসবাস ও পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে। ভবিষ্যতেও যেন সবাই শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করতে পারে, সেই পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সব ধর্ম ও মতের মানুষকে একযোগে দেশের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
ভোট দেওয়া-না দেওয়া সবার জন্য কাজ করবে সরকার
সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে বর্তমান সরকার দায়িত্ব পেয়েছে। কোনো এলাকায় সরকারি দলের প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন, আবার কোনো এলাকায় হননি। তবে সরকার শুধু ভোট দেওয়া মানুষের জন্য নয়, যারা ভোট দেননি তাদের জন্যও কাজ করতে চায়।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও বিদ্যমান সম্পদ বিবেচনায় দেশের সব এলাকায় সুষমভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
রাজনীতিতে পরিবর্তনে জনগণের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী
অতীতের রাজনৈতিক চর্চার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে সরকার। এ ক্ষেত্রে জনগণই সবচেয়ে বড় শক্তি বলে উল্লেখ করে তিনি তাদের সহযোগিতা কামনা করেন।
মন্দিরের উন্নয়নে ১০ লাখ টাকার অনুদান
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল এবং বিএনপি নেত্রী ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরের উন্নয়নে ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে দুপুর ১২টার দিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বাসে সড়কপথে মন্দিরে পৌঁছান তিনি। সেখানে মন্দির কমিটির সদস্য ও বিএনপি নেতারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। প্রধানমন্ত্রী পূজারিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের শুভেচ্ছা জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি ছিল তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর। মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন। সেখান থেকে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 
























