রংপুরে যাওয়ার পথে নীলফামারীর সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের সামনে বাস থামিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাত মেলানোর পাশাপাশি নিজেই সেলফি তোলেন তিনি। শিক্ষার্থীদের জন্য ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলার সামগ্রীও উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১০টা ১০ মিনিটের দিকে সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক উপস্থিতিতে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চাইলেন প্রয়োজনের কথা
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের কী প্রয়োজন, তা জানতে চান। তখন তিনি প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাস, বর্তমান অবস্থা এবং উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন চাহিদার কথা তুলে ধরেন।
অধ্যক্ষ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি স্কুল থেকে কলেজে উন্নীত হয়েছিল। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর পর তিনি কলেজটির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আরও জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সুযোগ বাড়ানো এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন অধ্যক্ষ।
ডাবল শিফট ও পৃথক ভবন নির্মাণের প্রস্তাব
অধ্যক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে এক শিফটে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে কলেজটিতে ডাবল শিফট চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য পৃথক দুটি ভবন নির্মাণ এবং একটি অডিটোরিয়াম প্রতিষ্ঠার দাবিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়।
অধ্যক্ষ জানান, এসব প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। এ বিষয়ে কলেজের পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে উচ্ছ্বসিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিমানবন্দর থেকে রংপুরে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে বাস থামিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি নিজেই শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনের কথা জানতে চান।
অধ্যক্ষ আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী বাসে বসেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হাত মেলান, নিজে সেলফি তোলেন এবং খেলাধুলার সামগ্রী উপহার দেন। একজন প্রধানমন্ত্রী সরাসরি এগিয়ে এসে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কথা শুনেছেন—এটি তাঁদের জন্য আনন্দের ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
স্মরণীয় হয়ে থাকল আকস্মিক যাত্রাবিরতি
নির্ধারিত গন্তব্যে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই আকস্মিক সাক্ষাৎ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে। সেলফি তোলা, কথা বলা এবং উপহার পাওয়ার ঘটনায় দিনটি তাঁদের কাছে বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রংপুর সফর শেষে দুপুর দেড়টার দিকে প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুর থেকে বিমানে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন।
প্রতিবেদকের নাম 



















