টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী মুম্বাইয়ে বাড়ি ধসে ছয়জনের প্রাণ গেছে, যাদের পাঁচজনই শিশু।
ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, পুনে জেলার মাভাল উপজেলার লোহাগড় দুর্গসংলগ্ন এলাকায় পাহাড়ধসে কয়েকটি বাড়ি চাপা পড়েছে। এতে অন্তত ৩০ জন আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল সোমবার সকাল পর্যন্ত একই পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে। বাকিদের উদ্ধারে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
অবিরাম বৃষ্টিতে মুম্বাই, পুনে, ঠানে, রায়গড় ও পালঘর জেলায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর মুম্বাই ও পুনের জন্য লাল সতর্কতা জারি করেছে। পরিস্থিতির কারণে সোমবার মুম্বাইয়ের স্কুল-কলেজ ও সরকারি দপ্তর বন্ধ রাখা হয়েছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ধসের কারণে সোমবার সকাল থেকে মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে পুরোনো মুম্বাই-পুনে সড়কের বিভিন্ন অংশও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সেখানেও যান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। মাভাল ও তামহিনি ঘাট এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং গাছ উপড়ে পড়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
রেল যোগাযোগেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। কেন্দ্রীয় রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারজাট-লোনাভলা ভোরঘাট এলাকায় পাহাড়ধসের কারণে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ১৬টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি ট্রেন বিকল্প পথে চলাচল করছে।
মুম্বাইয়ের মানখুর্দ এলাকায় রোববার রাতে একটি বাড়ি ধসে ছয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশুর বয়স ছিল দুই থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। এছাড়া ঠানে জেলায় কামবরী নদীতে ডুবে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস দুর্যোগে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে পাঁচ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
প্রতিবেদকের নাম 




















