ডিমকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক রয়েছে। একসময় কোলেস্টেরলের আশঙ্কায় অনেকেই ডিম এড়িয়ে চলতেন। তবে আধুনিক গবেষণা বলছে, পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য নিরাপদ এবং এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। তাই প্রশ্ন থেকেই যায়—প্রতিদিন ডিম খাওয়া কি ঠিক? কুসুম খাওয়া উচিত, নাকি বাদ দেওয়া ভালো? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিশেষজ্ঞদের মতামত।
ডিম কেন এত উপকারী?
ডিমকে পুষ্টির ভাণ্ডার বলা হয়। একটি বড় ডিমে থাকে প্রায় ৬ থেকে ৭ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন, যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সব অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড সরবরাহ করে।
এ ছাড়া ডিমে রয়েছে—
- কোলিন, যা মস্তিষ্কের বিকাশ ও কার্যকারিতায় সহায়ক
- ভিটামিন ডি, বি১২, এ ও ই
- সেলেনিয়াম
- স্বাস্থ্যকর চর্বি
- লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন, যা চোখের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডিমের কুসুম ফেলে দেওয়া ঠিক নয়। কারণ প্রয়োজনীয় অধিকাংশ ভিটামিন ও খনিজ উপাদান কুসুমেই থাকে।
দিনে কতটি ডিম খাওয়া উচিত?
সবার জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। তবে সাধারণভাবে—
- সুস্থ প্রাপ্তবয়স্করা সপ্তাহে ৩ থেকে ৭টি, অর্থাৎ প্রতিদিন একটি করে ডিম খেতে পারেন।
- শিশুরা তাদের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য প্রতিদিন একটি ডিম খেতে পারে।
- হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা উচ্চ এলডিএল কোলেস্টেরল থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডিম খাওয়া উচিত।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন একটি আস্ত ডিম হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ হতে পারে।
ডিম খাওয়ার সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর উপায়
ডিম রান্নার পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর পদ্ধতি হলো—
- সেদ্ধ ডিম
- পোচ
- অল্প তেলে হালকা ভাজা
অতিরিক্ত তেল বা মাখন ব্যবহার না করাই ভালো। পাশাপাশি ডিমের সঙ্গে শাকসবজি, ওটস বা পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার খেলে খাবার আরও সুষম ও পুষ্টিকর হয়।
বিশেষজ্ঞরা কাঁচা ডিম না খাওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ রান্না করা ডিমের প্রোটিন শরীরে সহজে শোষিত হয় এবং খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকিও কম থাকে।
ডিম কি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়?
ডিমে কোলেস্টেরল থাকলেও সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া অধিকাংশ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় না।
তবে ডিমের সঙ্গে কী খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। প্রক্রিয়াজাত মাংস, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার বা পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটের পরিবর্তে শাকসবজি ও পূর্ণ শস্যের সঙ্গে ডিম খাওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
ডিম একটি সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবার। পরিমিত পরিমাণে এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করে খেলে এটি শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে যাদের বিশেষ স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য ব্যক্তিগত খাদ্য পরিকল্পনা নির্ধারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
প্রতিবেদকের নাম 



















