বছরের প্রায় সব সময়ই সহজলভ্য ফলগুলোর মধ্যে কলা অন্যতম। স্বাদে, পুষ্টিতে এবং দামে সাশ্রয়ী হওয়ায় এটি অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে সকালের নাশতা বা হালকা খাবার হিসেবে কলা বেশ জনপ্রিয়।
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া–এর এক প্রতিবেদনে নিয়মিত ৪৫ দিন কলা খাওয়ার ফলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
কলার পুষ্টিগুণ
ইউএসডিএ (USDA)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা কলায় রয়েছে—
- ক্যালোরি: ৮৯ কিলোক্যালোরি
- কার্বোহাইড্রেট: ২২.৮০ গ্রাম
- ফাইবার: ২.৬০ গ্রাম
- প্রোটিন: ১.০৯ গ্রাম
- পটাশিয়াম: ৩৫৮ মিলিগ্রাম
- চর্বি: ০.৩৩ গ্রাম
- সোডিয়াম: ১ মিলিগ্রাম
- কোলেস্টেরল: ০ মিলিগ্রাম
গবেষণায় দেখা গেছে, কলা ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন ইসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানে সমৃদ্ধ, যা হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা ও শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে সহায়তা করে।
৪৫ দিন নিয়মিত কলা খাওয়ার সম্ভাব্য উপকারিতা
হৃদযন্ত্র ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
কলায় থাকা উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে ভূমিকা রাখে।
হজমশক্তি বৃদ্ধি
ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় নিয়মিত কলা খেলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমে।
দ্রুত শক্তির উৎস
প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট শরীরে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে, যা শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের আগে উপকারী।
মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব
কলায় থাকা ভিটামিন বি৬ সেরোটোনিন হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করে, যা মেজাজ ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।
কোষ সুরক্ষা ও শরীর সতেজ রাখা
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে।
সতর্কতা
- অতিরিক্ত কলা খেলে ক্যালোরি বেশি হয়ে ওজন বাড়তে পারে
- কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে পটাশিয়াম নিয়ন্ত্রণে সতর্কতা প্রয়োজন
- যেকোনো খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত
কলা একটি পুষ্টিকর ও সহজলভ্য ফল হলেও পরিমিত মাত্রায় গ্রহণ করাই স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে উপকারী।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
প্রতিবেদকের নাম 























