ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক ও  বর্তমানের শিকড় প্রবীণরা : রাষ্ট্রপতি হবিগঞ্জ-সিলেট রুটে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট তাপপ্রবাহে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহে দ্রুত গলন, তিন মাসে হারাল ২.২ ট্রিলিয়ন লিটার পানি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিন কমিটি বিলুপ্ত, বহিষ্কার ১৪ সালমান মুক্তাদিরকে বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারের আহ্বান সোহেল তাজের ইসরাইলগামী বিমানে ছুরিকাহত পাইলটকে ‘বীর’ বললেন মোদি জিম্বাবুয়েতে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ব্যবসায়ী দম্পতিসহ নিহত ৬ ডেঙ্গু মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫ লাখ টেস্ট কিট, যাবে সারাদেশের হাসপাতালে যৌথ অভিযানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জামায়াত-আওয়ামী লীগ নিয়ে উমামা ফাতেমার মন্তব্য
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ২৩ কোটি টাকার প্রস্তাব

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১১:১৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২১ সময় দেখুন

উত্তরাঞ্চলের তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা যাচাইয়ে প্রায় ২৩ কোটি টাকার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। সমীক্ষা প্রস্তাব অনুমোদন হলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য উত্তরাঞ্চলের বন্যা ও নদীভাঙন মোকাবিলা, পানিপ্রবাহ ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নদী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করা।

পরিকল্পনার আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষা, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কার এবং ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ ও বাঁধের ওপর সড়ক তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  মার্কিন ঘাঁটির কাছে বড় জরুরি পরিস্থিতি, বাড়ি খালি করে আটক কয়েকজন

এ ছাড়া নদীশাসনের মাধ্যমে প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার নতুন জমি পুনরুদ্ধার করে কৃষি ও শিল্পকাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরির কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বলেন, সমন্বিত এই পরিকল্পনা নদী ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সেচব্যবস্থায়ও ভূমিকা রাখতে পারে। তার মতে, প্রস্তাবিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও এর ওপরের সড়ক উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ আরও দুই অনুচ্ছেদে গণভোটের প্রস্তাব বিএনপির

নদী বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এজাজ বলেন, নদীর পলি ব্যবস্থাপনা ও গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় রেখে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে তা কার্যকর হতে পারে।

বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, উজান ও ভাটির পানিপ্রবাহ এবং প্রকল্পের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এটি দীর্ঘমেয়াদি সুফল দিতে পারে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম সাহাবুদ্দিন বলেন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে ব্যারেজ, নদীশাসন, ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সংরক্ষণসহ প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিক মূল্যায়ন করা হবে।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার জানান, প্রস্তাবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। অনুমোদন হলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় পরবর্তী ধাপে কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

আরও পড়ুনঃ  ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় নামাজের সময়সূচি

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের রূপরেখা ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এরপর প্রকল্পটির প্রাথমিক কার্যক্রমে গতি এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধাসহ তিস্তা অববাহিকার জেলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষায় নদীভাঙনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বন্যা ও ভাঙন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষি, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক ও  বর্তমানের শিকড় প্রবীণরা : রাষ্ট্রপতি

তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ২৩ কোটি টাকার প্রস্তাব

আপডেটের সময়: ১১:১৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উত্তরাঞ্চলের তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা যাচাইয়ে প্রায় ২৩ কোটি টাকার সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। সমীক্ষা প্রস্তাব অনুমোদন হলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য উত্তরাঞ্চলের বন্যা ও নদীভাঙন মোকাবিলা, পানিপ্রবাহ ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নদী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করা।

পরিকল্পনার আওতায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর রক্ষা, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কার এবং ১১০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিংয়ের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ ও বাঁধের ওপর সড়ক তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ১ হাজার ৭৯০ ইয়াবাসহ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার, ৩ দিনের রিমান্ড

এ ছাড়া নদীশাসনের মাধ্যমে প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার নতুন জমি পুনরুদ্ধার করে কৃষি ও শিল্পকাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরির কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন বলেন, সমন্বিত এই পরিকল্পনা নদী ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ ও সেচব্যবস্থায়ও ভূমিকা রাখতে পারে। তার মতে, প্রস্তাবিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও এর ওপরের সড়ক উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ক আরও গভীর করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

নদী বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এজাজ বলেন, নদীর পলি ব্যবস্থাপনা ও গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় রেখে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে তা কার্যকর হতে পারে।

বুয়েটের পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান বলেন, উজান ও ভাটির পানিপ্রবাহ এবং প্রকল্পের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এটি দীর্ঘমেয়াদি সুফল দিতে পারে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম সাহাবুদ্দিন বলেন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে ব্যারেজ, নদীশাসন, ড্রেজিং, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি সংরক্ষণসহ প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিক মূল্যায়ন করা হবে।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার জানান, প্রস্তাবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। অনুমোদন হলে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় পরবর্তী ধাপে কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

আরও পড়ুনঃ  চাঁদাবাজির প্রতিবাদে হাসনাত-পাটওয়ারীর প্রতীকী ‘গণভিক্ষা’

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের রূপরেখা ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এরপর প্রকল্পটির প্রাথমিক কার্যক্রমে গতি এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধাসহ তিস্তা অববাহিকার জেলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষায় নদীভাঙনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বন্যা ও ভাঙন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষি, যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।