দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার পথে জিম্বাবুয়েতে দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের একজন নরসিংদীর রবিউল এবং অন্যজন ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার মো. নুর আলম। রবিউলের স্বজনেরা তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ে সীমান্তসংলগ্ন একটি জঙ্গল পাড়ি দেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে নুর আলমের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
রবিউলের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় দুই বছর আগে তাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঠানোর কথা বলে বাকির নামে এক দালালকে সাত লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত মাসে মেহেদি নামে আরেক ব্যক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ ঘুরিয়ে প্রায় এক মাস ১০ দিনে রবিউলকে জিম্বাবুয়েতে নেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রবিউলের সঙ্গে থাকা দুই বাংলাদেশির কাছ থেকে তাঁরা জানতে পেরেছেন, মধ্যবর্তী দালালের সঙ্গে অর্থ লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে রবিউল নির্যাতনের শিকার হন। পরে অসুস্থ হয়ে জিম্বাবুয়েতেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে তাঁদের জানানো হয়েছে। তবে নির্যাতনের অভিযোগ কিংবা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জঙ্গলে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু নুর আলমের
অন্যদিকে, নুর আলম ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার ৬ নম্বর কাশিপুর ইউনিয়নের আরাজি চন্দন চহট (মালসুডাঙ্গা) গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. আব্দুল হাশিম।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর নুর আলমের মৃত্যু হয়। তবে স্বজনেরা মৃত্যুর খবর পান ২০ অক্টোবর। দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে জিম্বাবুয়ে সীমান্তসংলগ্ন একটি জঙ্গল পাড়ি দেওয়ার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তবে নুর আলমের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময়, স্থান ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মরদেহ দেশে ফেরাতে পরিবারের আবেদন
রবিউলের বাবা নায়েব আলী ও মা সুফিয়া বেগম ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
অন্যদিকে, নুর আলমের মরদেহ বর্তমানে কোথায় রয়েছে এবং তা দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিদেশে কর্মসংস্থানের আশায় দালালের মাধ্যমে দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে দুই বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রবিউলের মৃত্যুর ঘটনায় ওঠা নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত, দুই যুবকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছেন স্বজনেরা।
প্রতিবেদকের নাম 
























