ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

মরিনিওর যে ৩ কৌশলে কুপোকাত বার্সেলোনা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:২৪:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ সময় দেখুন

এল ক্লাসিকো মানেই উত্তেজনা, রোমাঞ্চ আর হিসাব-নিকাশের বাইরে গিয়ে লড়াই। তবে এবার বার্সেলোনার মাঠে জোসে মরিনিওর কৌশলের কাছে হার মানতে হয়েছে হানসি ফ্লিকের দলকে। রোববার রাতে স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

রিয়ালের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কোচ মরিনিও। ম্যাচের আগে একাদশ সাজানো থেকে শুরু করে মাঠের কৌশল ও বদলি খেলোয়াড় নামানো—তাঁর তিনটি সিদ্ধান্তই আলোচনায় এসেছে।

১. মাঝমাঠে বের্নার্দো সিলভাকে নতুন ভূমিকায়

বার্সেলোনার বিপক্ষে চারজনের মাঝমাঠ সাজিয়ে খেলান মরিনিও। সেখানে রক্ষণাত্মক দায়িত্বে বের্নার্দো সিলভাকে ব্যবহার করেন তিনি। রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর সাধারণত আরও আক্রমণাত্মক বা মাঝমাঠের সামনের দিকে খেললেও এবার তাঁকে ডাবল পিভোটের অংশ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  চতুর্থ মেয়াদে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন লুলা দা সিলভা

এই সিদ্ধান্ত রিয়ালের মাঝমাঠে ভারসাম্য এনে দেয়। বল দখলে রাখার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখেন সিলভা। তাঁর উপস্থিতিতে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা সামনে বেশি স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে পেরেছেন।

একজন টেকনিক্যাল ফুটবলার হয়েও রক্ষণ সামলানোর দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করায় রিয়ালের আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে সমন্বয় তৈরি হয়। বার্সেলোনার বিপক্ষে মাঝমাঠে এই ভারসাম্যই রিয়ালকে সুবিধা এনে দেয়।

২. বার্সেলোনার প্রেসিং ভেঙে আক্রমণ

ফ্লিকের বার্সেলোনা প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে বল কেড়ে নেওয়ার ফুটবলে অভ্যস্ত। কিন্তু সেই প্রেসিং সামলানোর কার্যকর কৌশল দেখিয়েছে মরিনিওর রিয়াল।

রিয়ালের খেলোয়াড়েরা ধৈর্য ধরে বল আদান-প্রদানের মাধ্যমে বার্সেলোনার ফুটবলারদের নিজেদের দিকে টেনে আনেন। এতে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠেন তাঁরা।

আরও পড়ুনঃ  হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ব্রাজিলে ফের প্রেসিডেন্ট লুলা, হারলেন বোলসোনারো

কিলিয়ান এমবাপ্পের গতি কাজে লাগানোর পাশাপাশি রক্ষণভাগের পেছনে ফাঁকা জায়গায় সতীর্থদের দৌড়ও ছিল রিয়ালের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বার্সেলোনার রক্ষণ উঁচুতে উঠে আসায় পাল্টা আক্রমণে রিয়াল একাধিকবার সংখ্যাগত সুবিধা পেয়েছে।

প্রতিপক্ষের প্রেসিংকে নিজেদের আক্রমণের সুযোগে পরিণত করাই ছিল মরিনিওর অন্যতম কার্যকর কৌশল।

৩. কামাভিঙ্গাকে নামিয়ে জয়সূচক আক্রমণ

মরিনিওর তৃতীয় বড় সিদ্ধান্ত ছিল বদলি হিসেবে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে মাঠে নামানো। ম্যাচের শেষ দিকে বার্সেলোনা মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করছিল। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংকে নামিয়ে তারা আক্রমণে গতি ফেরানোর পাশাপাশি বল দখলেও উন্নতি আনার চেষ্টা করে।

এর জবাবে কামাভিঙ্গাকে মাঠে নামান মরিনিও। তাঁকে তুলনামূলকভাবে প্রশস্ত জায়গা ব্যবহার করে আক্রমণে ওঠার সুযোগ দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত জয়সূচক গোলের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই ফরাসি মিডফিল্ডার।

আরও পড়ুনঃ  সৌদি আরবে বিমানবন্দর ও তেলক্ষেত্রে হামলা, নিহত ৪; দুই বাংলাদেশিসহ আহত ১০

ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের দারুণ নৈপুণ্যে শুরু হওয়া আক্রমণ আরদা গুলেরের মাধ্যমে কামাভিঙ্গার কাছে পৌঁছায়। এরপর কামাভিঙ্গা বার্সেলোনার রক্ষণভাগের খেলোয়াড় পাউ কুবারসিকে কাটিয়ে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপ্পের উদ্দেশে। সহজ ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ফরাসি তারকা।

এই গোলেই ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় রিয়ালের। শেষ মুহূর্তে সঠিক খেলোয়াড়কে মাঠে নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি মরিনিওর কৌশলগত পরিকল্পনার সার্থকতা তুলে ধরে।

সব মিলিয়ে মাঝমাঠে ভারসাম্য আনা, বার্সেলোনার প্রেসিং ভেঙে দ্রুত আক্রমণ এবং বদলি খেলোয়াড়ের কার্যকর ব্যবহার—এই তিনটি কৌশল রিয়ালকে এল ক্লাসিকোয় জয় পেতে সাহায্য করেছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মরিনিওর যে ৩ কৌশলে কুপোকাত বার্সেলোনা

আপডেটের সময়: ০৯:২৪:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

এল ক্লাসিকো মানেই উত্তেজনা, রোমাঞ্চ আর হিসাব-নিকাশের বাইরে গিয়ে লড়াই। তবে এবার বার্সেলোনার মাঠে জোসে মরিনিওর কৌশলের কাছে হার মানতে হয়েছে হানসি ফ্লিকের দলকে। রোববার রাতে স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

রিয়ালের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কোচ মরিনিও। ম্যাচের আগে একাদশ সাজানো থেকে শুরু করে মাঠের কৌশল ও বদলি খেলোয়াড় নামানো—তাঁর তিনটি সিদ্ধান্তই আলোচনায় এসেছে।

১. মাঝমাঠে বের্নার্দো সিলভাকে নতুন ভূমিকায়

বার্সেলোনার বিপক্ষে চারজনের মাঝমাঠ সাজিয়ে খেলান মরিনিও। সেখানে রক্ষণাত্মক দায়িত্বে বের্নার্দো সিলভাকে ব্যবহার করেন তিনি। রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর সাধারণত আরও আক্রমণাত্মক বা মাঝমাঠের সামনের দিকে খেললেও এবার তাঁকে ডাবল পিভোটের অংশ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাম্পের ‘মাদার অব অল বোম্বস’-এর জবাবে নতুন অস্ত্র উন্মোচনের ঘোষণা ইরানের

এই সিদ্ধান্ত রিয়ালের মাঝমাঠে ভারসাম্য এনে দেয়। বল দখলে রাখার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখেন সিলভা। তাঁর উপস্থিতিতে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা সামনে বেশি স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে পেরেছেন।

একজন টেকনিক্যাল ফুটবলার হয়েও রক্ষণ সামলানোর দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করায় রিয়ালের আক্রমণ ও রক্ষণের মধ্যে সমন্বয় তৈরি হয়। বার্সেলোনার বিপক্ষে মাঝমাঠে এই ভারসাম্যই রিয়ালকে সুবিধা এনে দেয়।

২. বার্সেলোনার প্রেসিং ভেঙে আক্রমণ

ফ্লিকের বার্সেলোনা প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে বল কেড়ে নেওয়ার ফুটবলে অভ্যস্ত। কিন্তু সেই প্রেসিং সামলানোর কার্যকর কৌশল দেখিয়েছে মরিনিওর রিয়াল।

রিয়ালের খেলোয়াড়েরা ধৈর্য ধরে বল আদান-প্রদানের মাধ্যমে বার্সেলোনার ফুটবলারদের নিজেদের দিকে টেনে আনেন। এতে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠেন তাঁরা।

আরও পড়ুনঃ  ইরান যুদ্ধকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বললেন ওবামা, পাল্টা আক্রমণ ট্রাম্পের

কিলিয়ান এমবাপ্পের গতি কাজে লাগানোর পাশাপাশি রক্ষণভাগের পেছনে ফাঁকা জায়গায় সতীর্থদের দৌড়ও ছিল রিয়ালের পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বার্সেলোনার রক্ষণ উঁচুতে উঠে আসায় পাল্টা আক্রমণে রিয়াল একাধিকবার সংখ্যাগত সুবিধা পেয়েছে।

প্রতিপক্ষের প্রেসিংকে নিজেদের আক্রমণের সুযোগে পরিণত করাই ছিল মরিনিওর অন্যতম কার্যকর কৌশল।

৩. কামাভিঙ্গাকে নামিয়ে জয়সূচক আক্রমণ

মরিনিওর তৃতীয় বড় সিদ্ধান্ত ছিল বদলি হিসেবে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে মাঠে নামানো। ম্যাচের শেষ দিকে বার্সেলোনা মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করছিল। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংকে নামিয়ে তারা আক্রমণে গতি ফেরানোর পাশাপাশি বল দখলেও উন্নতি আনার চেষ্টা করে।

এর জবাবে কামাভিঙ্গাকে মাঠে নামান মরিনিও। তাঁকে তুলনামূলকভাবে প্রশস্ত জায়গা ব্যবহার করে আক্রমণে ওঠার সুযোগ দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত জয়সূচক গোলের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই ফরাসি মিডফিল্ডার।

আরও পড়ুনঃ  হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ব্রাজিলে ফের প্রেসিডেন্ট লুলা, হারলেন বোলসোনারো

ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের দারুণ নৈপুণ্যে শুরু হওয়া আক্রমণ আরদা গুলেরের মাধ্যমে কামাভিঙ্গার কাছে পৌঁছায়। এরপর কামাভিঙ্গা বার্সেলোনার রক্ষণভাগের খেলোয়াড় পাউ কুবারসিকে কাটিয়ে বল বাড়িয়ে দেন এমবাপ্পের উদ্দেশে। সহজ ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন ফরাসি তারকা।

এই গোলেই ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় রিয়ালের। শেষ মুহূর্তে সঠিক খেলোয়াড়কে মাঠে নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি মরিনিওর কৌশলগত পরিকল্পনার সার্থকতা তুলে ধরে।

সব মিলিয়ে মাঝমাঠে ভারসাম্য আনা, বার্সেলোনার প্রেসিং ভেঙে দ্রুত আক্রমণ এবং বদলি খেলোয়াড়ের কার্যকর ব্যবহার—এই তিনটি কৌশল রিয়ালকে এল ক্লাসিকোয় জয় পেতে সাহায্য করেছে।