ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেছেন, এ সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়েছে। ওবামার বক্তব্যের পর তাঁকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন ট্রাম্পও। <Cite refs={[“turn641169view0″,”turn641169view1”]}/>
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে শনিবার (২৪ অক্টোবর) ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন ওবামা। সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি।
ওবামা বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্ট একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ভুল হলো এমন একটি যুদ্ধ শুরু করা, যার দাবি কেউ জানায়নি। তাঁর মতে, এই সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি তেলের পাশাপাশি ডিজেলের দামেও পড়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য, যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন বিজয়ের দাবি করলেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। <Cite refs={[“turn641169view0″,”turn950201search4”]}/>
ওবামাকে ‘অযোগ্য’ বললেন ট্রাম্প
ওবামার বক্তব্যের জবাবে রোববার (২৫ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট দেন ট্রাম্প। সেখানে সাবেক প্রেসিডেন্টকে ‘চরম অযোগ্য’ বলে আখ্যা দেন তিনি।
ট্রাম্পের অভিযোগ, ওবামা প্রশাসন ইরানকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি ওবামার আমলে ২০১৫ সালে সম্পাদিত ইরান পারমাণবিক চুক্তির সমালোচনা করেন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, অতীতে ওবামা হিলারি ক্লিনটন ও কমলা হ্যারিসের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েও তাঁদের জেতাতে পারেননি। সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারণায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন করার বিষয়েও ওবামাকে আক্রমণ করেন তিনি। <Cite refs={[“turn824679search1″,”turn824679search3”]}/>
নির্বাচনের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওবামা ও ট্রাম্পের এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেশটির রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় ইরান যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, অর্থনীতি এবং প্রশাসনের কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
ওবামা যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন। অন্যদিকে ট্রাম্প তাঁর পূর্বসূরির ইরান নীতি ও ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী অবস্থানের সমালোচনা করছেন। দুই নেতার বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে তাঁদের ভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 





















