হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ডালিম ও আপেল—দুটিই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে খাদ্যআঁশ, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণে ফল দুটির মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
ডালিমে রয়েছে পলিফেনল, পুনিক্যালাজিন ও এলাজিট্যানিনের মতো উদ্ভিজ্জ যৌগ, যেগুলোর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু গবেষণায় ডালিমের রস গ্রহণের সঙ্গে রক্তচাপ কমার সম্পর্ক পাওয়া গেলেও এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আপেল খাদ্যআঁশ ও পলিফেনলের ভালো উৎস। আপেলের দ্রবণীয় খাদ্যআঁশ পেকটিন রক্তের ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও ভূমিকা রাখে।
পুষ্টিগুণে কে এগিয়ে?
পুষ্টিমান অনুযায়ী, আধা কাপ ডালিমের দানায় প্রায় ৭২ ক্যালরি, ৩.৫ গ্রাম খাদ্যআঁশ ও ২০৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। অন্যদিকে, একটি মাঝারি আকারের আপেলে প্রায় ৯৬ ক্যালরি, ৪ গ্রাম খাদ্যআঁশ ও ১৬৯ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, খাদ্যআঁশের পরিমাণে আপেল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও পটাশিয়ামের পরিমাণ ডালিমে বেশি। পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং স্বাভাবিক রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের দিক থেকেও রয়েছে পার্থক্য
ডালিমে অ্যান্থোসায়ানিন, এলাজিক অ্যাসিড ও বিভিন্ন ধরনের ট্যানিন রয়েছে। অন্যদিকে, আপেলে পাওয়া যায় পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড ও ভিটামিন সি। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে শুধু অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণের ভিত্তিতে কোনো একটি ফলকে হৃদযন্ত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ বলা যায় না। ফলের পরিমাণ, সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও ব্যক্তির স্বাস্থ্যের অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।
যেভাবে খাবেন ডালিম ও আপেল
পুষ্টিগুণ পেতে ফলের রসের পরিবর্তে গোটা ফল খাওয়া ভালো। সকালের নাশতায় ওটমিল বা চিনি ছাড়া দইয়ের সঙ্গে ডালিমের দানা খাওয়া যেতে পারে। আবার বিকালের নাশতায় একটি আপেল রাখা যায়। চাইলে ফলের সঙ্গে অল্প পরিমাণ লবণবিহীন বাদামও খেতে পারেন।
হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে ফল খাওয়ার পাশাপাশি সুষম খাবার গ্রহণ, অতিরিক্ত লবণ সীমিত রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে শুধু ফল খাওয়াকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
সব মিলিয়ে, ডালিম ও আপেল—দুটিই হৃদস্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার উপকারী অংশ। তাই একটি ফলের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের ফল খাওয়াই ভালো।
সূত্র: দৈনিক যুগান্তর।
প্রতিবেদকের নাম 



















