ঢাকা ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় পুলিশের যানবাহনে দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার ‘তোমাকে ছাড়া এখনও বেঁচে আছি’, সুগন্ধি চালের দামে রেকর্ড উল্লম্ফন, এক মাসে কেজিতে বেড়েছে ৬০–৮০ টাকা শুটিং সেটে আহত রাশমিকা মান্দানা, ছয় সপ্তাহ বিশ্রামের পরামর্শ চিকিৎসকদের ঢাকার মঞ্চে প্রথমবার গান শোনাবেন পাকিস্তানি র‍্যাপার হাসান রহিম দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষামন্ত্রী ৪-৫ বছরের মধ্যে অর্থনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশা, উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক আগস্টে টানা বৃষ্টি ও বন্যার আভাস, সাগরে একাধিক লঘুচাপের শঙ্কা সাভারে মশাল মিছিলের সময় ৯ জন গ্রেপ্তার, জব্দ ব্যানার-মশাল ও মোটরসাইকেল জয়পুরহাট-নওগাঁর নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

নির্মাণের দেড় মাসেই ধস, পদ্মার ভাঙন আতঙ্কে লৌহজংয়ের নদীতীরবর্তী পরিবারগুলো

 

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের মাত্র দেড় মাসের মাথায় ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধের সিসি ব্লকের একটি অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী শতাধিক পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত রোববার বিকেলে গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে গাঁওদিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে হঠাৎ করেই তীররক্ষা বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ে। কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই বাঁধের সুরক্ষায় বসানো সিসি ব্লক নদীতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। এতে বাঁধের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আরও বড় ধরনের ভাঙনের শঙ্কা তৈরি হয়।

আরও পড়ুনঃ  ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৫৩৪

দীর্ঘদিন পদ্মার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এ অঞ্চলের মানুষ নতুন বাঁধ নির্মাণের পর স্বস্তি ফিরে পেয়েছিলেন। তবে নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ধস দেখা দেওয়ায় সেই স্বস্তি আবারও উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ খান বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে পদ্মার ভাঙনে তিনি সর্বস্ব হারিয়েছেন। নতুন বাঁধ নির্মাণের পর স্থায়ীভাবে বসবাসের আশা জাগলেও এখন আবার ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কড়া বার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

রিতা রাণী দে বলেন, বাঁধ নির্মাণের পর নিরাপদে থাকার আশা করেছিলেন, কিন্তু সাম্প্রতিক ধসে সেই নিরাপত্তাবোধ আর নেই। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে মনির চন্দ্র দে জানান, অতীতে নদীভাঙনে তাদের জমিজমা বিলীন হয়েছে। নতুন করে বসতি গড়লেও আবারও ভিটেমাটি হারানোর ভয় দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাগর বলেন, ধসের খবর পেয়ে রাতেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরবাড়ির মালামাল সরিয়ে নিতে হয়েছে।

নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁধে ধস নামায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, বর্ষায় নদীর স্রোত আরও বাড়লে গাঁওদিয়া বাজারসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তারা দ্রুত স্থায়ী মেরামতের পাশাপাশি নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশের বস্ত্রখাতে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের সানকো

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। খবর পাওয়ার পরই পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় পুলিশের যানবাহনে দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার

নির্মাণের দেড় মাসেই ধস, পদ্মার ভাঙন আতঙ্কে লৌহজংয়ের নদীতীরবর্তী পরিবারগুলো

আপডেটের সময়: ০৯:৫৮:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

 

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া এলাকায় পদ্মা নদীর তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের মাত্র দেড় মাসের মাথায় ধস দেখা দিয়েছে। বাঁধের সিসি ব্লকের একটি অংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী শতাধিক পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত রোববার বিকেলে গাঁওদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে গাঁওদিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে হঠাৎ করেই তীররক্ষা বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়ে। কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই বাঁধের সুরক্ষায় বসানো সিসি ব্লক নদীতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। এতে বাঁধের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আরও বড় ধরনের ভাঙনের শঙ্কা তৈরি হয়।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশের বস্ত্রখাতে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের সানকো

দীর্ঘদিন পদ্মার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এ অঞ্চলের মানুষ নতুন বাঁধ নির্মাণের পর স্বস্তি ফিরে পেয়েছিলেন। তবে নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ধস দেখা দেওয়ায় সেই স্বস্তি আবারও উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ খান বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে পদ্মার ভাঙনে তিনি সর্বস্ব হারিয়েছেন। নতুন বাঁধ নির্মাণের পর স্থায়ীভাবে বসবাসের আশা জাগলেও এখন আবার ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ‘তোমাকে ছাড়া এখনও বেঁচে আছি’,

রিতা রাণী দে বলেন, বাঁধ নির্মাণের পর নিরাপদে থাকার আশা করেছিলেন, কিন্তু সাম্প্রতিক ধসে সেই নিরাপত্তাবোধ আর নেই। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে মনির চন্দ্র দে জানান, অতীতে নদীভাঙনে তাদের জমিজমা বিলীন হয়েছে। নতুন করে বসতি গড়লেও আবারও ভিটেমাটি হারানোর ভয় দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাগর বলেন, ধসের খবর পেয়ে রাতেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরবাড়ির মালামাল সরিয়ে নিতে হয়েছে।

নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁধে ধস নামায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, বর্ষায় নদীর স্রোত আরও বাড়লে গাঁওদিয়া বাজারসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তারা দ্রুত স্থায়ী মেরামতের পাশাপাশি নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কড়া বার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। খবর পাওয়ার পরই পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।

মুন্সীগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শেখ এনামুল হক বলেন, বর্তমানে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।