ঢাকা ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

নির্যাতন-শোষণের শিকার হয়ে ৭ বছরে দেশে ফিরেছেন ৭০ হাজার নারী কর্মী

বিদেশে গিয়ে নির্যাতন, শোষণ ও প্রতারণার শিকার হয়ে গত সাত বছরে প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশি নারী কর্মী দেশে ফিরেছেন। তাদের অনেকেই প্রেম, বিয়ে কিংবা ভালো চাকরির প্রলোভনে বিদেশে গিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের ফাঁদে পড়েছেন বলে জানিয়েছে অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা।

ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে নির্যাতন ও নানা ধরনের শোষণের শিকার হয়ে দেশে ফেরা নারী কর্মীদের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। একই সময়ে বিদেশ থেকে প্রায় ৮০০ নারী কর্মীর মরদেহ দেশে ফিরেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্কের মাধ্যমে বাংলাদেশি নারীদের বিদেশে পাচারের অভিযোগও বেড়েছে। বিশেষ করে চীনা নাগরিকদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক তৈরি করে নারীদের চীনে নেওয়ার চেষ্টা করার কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিদেশি নাগরিকরা স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে গ্রামের নারীদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করেন। কয়েক মাস সম্পর্ক চালানোর পর বাংলাদেশে এসে পরিবারের আস্থা অর্জন করেন। পরে বিয়ের মাধ্যমে ওই নারীদের বিদেশে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিদেশে নেওয়ার পর তাদের বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বিদেশি সংবাদমাধ্যমের ওপর নতুন বিধিনিষেধ, সমালোচনার মুখে পাকিস্তান

এ ধরনের অভিযোগে গত কয়েক বছরে কয়েকজন চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার হয়েছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুই চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দুই বাংলাদেশি নারীকে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্কের মাধ্যমে চীনে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে একই ধরনের অভিযোগে আরও দুই চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুধু প্রেম ও বিয়ের ফাঁদ নয়, বিদেশে ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়েও নারী পাচারের ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফেরা এক নারী বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন। তার অভিযোগ, মাসে এক লাখ টাকা বেতনে কাস্টমার কেয়ার চাকরির কথা বলে তাকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়।

আরও পড়ুনঃ  জুলাইযোদ্ধাদের সিএনজি ও রিকশা উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী

অভিযোগ অনুযায়ী, বিদেশে যাওয়ার জন্য তার কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তার পাসপোর্ট ও ডলার নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেখানে তাকে নির্যাতন এবং অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। পরে তিনি পালিয়ে ব্র্যাকের সহায়তায় দেশে ফেরেন।

সৌদি আরবেও চাকরির প্রলোভনে গিয়ে এক বাংলাদেশি নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে আটকে রেখে মারধর, খাবার না দেওয়া এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগও সামনে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ  রাষ্ট্রপতি পদে ড. ইউনূসকে কোনো প্রস্তাব নয়, আলোচনায় মির্জা ফখরুল: প্রতিবেদন

অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নারীদের টার্গেট করা হচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার আগে চাকরি, নিয়োগদাতা ও ভিসার তথ্য যাচাই না করায় অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান বলেন, বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য যাচাই করা জরুরি। বিদেশে নির্যাতনের শিকার নারীদের দ্রুত আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রেম, বিয়ে কিংবা চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দূতাবাস এবং অভিবাসনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিদেশ যাওয়ার আগে ভিসা, চাকরির নিয়োগদাতা এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকের পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়ে নারীদের আরও সচেতন করাও জরুরি।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

নির্যাতন-শোষণের শিকার হয়ে ৭ বছরে দেশে ফিরেছেন ৭০ হাজার নারী কর্মী

আপডেটের সময়: ০৮:০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

বিদেশে গিয়ে নির্যাতন, শোষণ ও প্রতারণার শিকার হয়ে গত সাত বছরে প্রায় ৭০ হাজার বাংলাদেশি নারী কর্মী দেশে ফিরেছেন। তাদের অনেকেই প্রেম, বিয়ে কিংবা ভালো চাকরির প্রলোভনে বিদেশে গিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের ফাঁদে পড়েছেন বলে জানিয়েছে অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা।

ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, গত সাত বছরে নির্যাতন ও নানা ধরনের শোষণের শিকার হয়ে দেশে ফেরা নারী কর্মীদের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। একই সময়ে বিদেশ থেকে প্রায় ৮০০ নারী কর্মীর মরদেহ দেশে ফিরেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্কের মাধ্যমে বাংলাদেশি নারীদের বিদেশে পাচারের অভিযোগও বেড়েছে। বিশেষ করে চীনা নাগরিকদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক তৈরি করে নারীদের চীনে নেওয়ার চেষ্টা করার কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিদেশি নাগরিকরা স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে গ্রামের নারীদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করেন। কয়েক মাস সম্পর্ক চালানোর পর বাংলাদেশে এসে পরিবারের আস্থা অর্জন করেন। পরে বিয়ের মাধ্যমে ওই নারীদের বিদেশে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিদেশে নেওয়ার পর তাদের বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ১২ হাজার কোটি টাকা আয়ের পথে নোলানের ‘দ্য ওডিসি’

এ ধরনের অভিযোগে গত কয়েক বছরে কয়েকজন চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার হয়েছেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুই চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দুই বাংলাদেশি নারীকে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্কের মাধ্যমে চীনে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে একই ধরনের অভিযোগে আরও দুই চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুধু প্রেম ও বিয়ের ফাঁদ নয়, বিদেশে ভালো চাকরি ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়েও নারী পাচারের ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফেরা এক নারী বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন। তার অভিযোগ, মাসে এক লাখ টাকা বেতনে কাস্টমার কেয়ার চাকরির কথা বলে তাকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়।

আরও পড়ুনঃ  ফিল্মি কায়দায় পুলিশের হেফাজত থেকে পালালেন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি

অভিযোগ অনুযায়ী, বিদেশে যাওয়ার জন্য তার কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তার পাসপোর্ট ও ডলার নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সেখানে তাকে নির্যাতন এবং অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। পরে তিনি পালিয়ে ব্র্যাকের সহায়তায় দেশে ফেরেন।

সৌদি আরবেও চাকরির প্রলোভনে গিয়ে এক বাংলাদেশি নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে আটকে রেখে মারধর, খাবার না দেওয়া এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগও সামনে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ  দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসের ভিডিও করতে গিয়ে আরেক মাইক্রোবাস খাদে

অভিবাসনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নারীদের টার্গেট করা হচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার আগে চাকরি, নিয়োগদাতা ও ভিসার তথ্য যাচাই না করায় অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শরিফুল হাসান বলেন, বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য যাচাই করা জরুরি। বিদেশে নির্যাতনের শিকার নারীদের দ্রুত আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রেম, বিয়ে কিংবা চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দূতাবাস এবং অভিবাসনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিদেশ যাওয়ার আগে ভিসা, চাকরির নিয়োগদাতা এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকের পরিচয় যাচাইয়ের বিষয়ে নারীদের আরও সচেতন করাও জরুরি।