মন্ত্রিসভা থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন খবরকে গুজব বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও এ খবরকে অসত্য, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) এক অডিও বার্তায় ইশরাক হোসেন বলেন, সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি, বিষয়টিকে গুজব হিসেবে বিবেচনা করবেন। এ খবরের কোনো সত্যতা এখনো নেই। এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে, কোনো অজ্ঞাত সূত্রের খবরের মাধ্যমে নয়।
পদত্যাগের নির্দেশের খবর অস্বীকার মন্ত্রণালয়ের
প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইশরাক হোসেন তাঁর সরকারি ও রাজনৈতিক দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে পালন করছেন। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তাঁর পদত্যাগের প্রশ্নও ওঠেনি বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি মহল এ ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।
বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও দেশবাসীকে বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যেসব গণমাধ্যমে এ ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার করে সঠিক তথ্য প্রকাশের অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে বিতর্ক
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা। এ সময় তাঁদের হাতে অস্ত্র দেখা যায়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিলে আত্মরক্ষার যুক্তি তুলে ধরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন প্রতিমন্ত্রী। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতেও বলা হয়, ওই ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার্থে আইনসম্মতভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছিল বলে প্রতিমন্ত্রী তাঁর অবস্থান আগেই পরিষ্কার করেছেন।
তদন্ত করছে পুলিশ
অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি আইনসম্মত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, তদন্তে কোনো অনিয়ম বা ব্যত্যয় পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশসংক্রান্ত খবরকে তিনি ও মন্ত্রণালয় অস্বীকার করেছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিবেদকের নাম 






















