চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষায় বহিরাগত একজনকে দিয়ে ভাইভা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী তথ্যসংগ্রহকারী পদে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় একটি বেসরকারি কম্পিউটার প্রশিক্ষণকেন্দ্রের পরিচালকও ভাইভা বোর্ডে বসে পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন করেন।
পরীক্ষা শেষে একাধিক চাকরিপ্রত্যাশী জানান, শুরুতে তারা ওই ব্যক্তিকে সরকারি কর্মকর্তা মনে করলেও পরে জানতে পারেন তিনি বহিরাগত। এতে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ ও অস্বস্তির সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির নাম তৌহিদুল হক ইকন। তিনি সাতকানিয়ার একটি বেসরকারি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারের পরিচালক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী বলেন, সরকারি চাকরির ভাইভা বোর্ডে একজন বহিরাগত প্রশ্ন করলে নিয়োগের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আরেক পরীক্ষার্থীর ভাষ্য, যাদের কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেই, তাদের উপস্থিতি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি করেছে।
আরও কয়েকজন চাকরিপ্রত্যাশী অভিযোগ করেন, ভাইভা বোর্ডে বহিরাগত ব্যক্তির উপস্থিতি পুরো নিয়োগ কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্যসংগ্রহের জন্য গঠিত স্বেচ্ছাসেবী নির্বাচন কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, তৌহিদুল হক ইকন মূলত টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেওয়ার জন্য পরীক্ষকদের সঙ্গে ছিলেন। তবে সরকারি নিয়োগের ভাইভা বোর্ডে বহিরাগত উপস্থিত থাকার বৈধতা সম্পর্কে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। চাকরিপ্রত্যাশীদের দাবি, সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
প্রতিবেদকের নাম 




















