দলীয় কার্যালয় দখলের চেষ্টার অভিযোগে বিদ্রোহী নেতাদের কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেট্রোপলিটন এলাকার দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি ফেসবুক লাইভে ভবনটির ভাড়া ও মালিকানা-সংক্রান্ত নথিপত্রও প্রকাশ করেন।
শনিবার (৪ জুলাই) ফেসবুক লাইভে মমতা বলেন, কালীঘাটের পুরোনো দলীয় কার্যালয়টি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় সংস্কারকাজ চলাকালে সাময়িকভাবে মেট্রোপলিটনের ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়।
তিনি জানান, ভবনটির জন্য প্রতি মাসে এক লাখ রুপি ভাড়া চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল ও করপোরেশনের সব ধরনের করও নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে। এসব তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘তাহলে কেন সেন্ট্রাল ফোর্স নিয়ে গিয়ে তালা দিয়ে এলেন?’
বিদ্রোহী শিবিরকে উদ্দেশ করে মমতা বলেন, ‘একটা বাড়ি তালা দিতে পারবেন, কিন্তু মনে রাখবেন মানুষের হৃদয়কে কখনো তালা দেওয়া যায় না।’
দলের শুরুর সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, কালীঘাটের ৩০-বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটিই শুরু থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় ছিল এবং ভবিষ্যতেও সেটিই থাকবে। তিনি বলেন, ‘নিশ্চিন্তে থাকুন, আমি থাকব।’
এর আগে শুক্রবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী শিবিরের কয়েকজন বিধায়ক, যাদের মধ্যে সন্দীপন সাহা, ফিরহাদ হাকিম ও জাভেদ খান ছিলেন, মেট্রোপলিটনের দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেন। পরে তারা ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে চলে যান।
বিদ্রোহী নেতা আখরুজ্জামান দাবি করেন, ভবনের মালিকের সঙ্গে আলোচনা করেই তারা কার্যালয়টি পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে একই দিন বিকেলে ফেসবুক লাইভে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রকাশ করে ওই দাবির জবাব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিকে দলীয় কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই তৃণমূলের দীর্ঘদিনের নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই ঘটনায় কালীঘাটপন্থী নেতা কুণাল ঘোষ প্রগতি ময়দান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এছাড়া নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি চেয়ে ঋতব্রত শিবিরের উদ্যোগ এবং তার জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকাশ্য অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















