বেতন না পাওয়া এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স। ইংলিশ এই কোচ দাবি করেছেন, আর্থিক সংকটের পাশাপাশি তিনি নিজের জীবন নিয়েও আতঙ্কে রয়েছেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের পরিস্থিতি তুলে ধরেন জোন্স। সেখানে তিনি জানান, বেতন না পাওয়ায় পরিবারকে প্রয়োজনীয় অর্থ পাঠাতে পারছেন না। একই সঙ্গে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টে জোন্স লেখেন, ‘মন খুব খারাপ। নিজের নিরাপত্তা এবং পরিবারের কথা ভেবে চিন্তায় আছি। প্রতিনিয়ত ভুল বোঝাবুঝি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা হজম করা কঠিন।’
নিজের আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘বেতনের অপেক্ষায় আছি। আমার কাছে কোনো টাকা নেই, আর পরিবারকে খাবার কেনার জন্য দেশে টাকা পাঠাতে পারছি না।’
এরপর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আরও গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করে জোন্স বলেন, ‘আমি নিজের জীবন নিয়ে ভয়ে ও আতঙ্কে আছি।’
যা বলছে বাফুফে
জেরার্ড জোন্সের এমন প্রকাশ্য অভিযোগে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী।
তিনি জানান, গত ৯ আগস্টই জেরার্ড জোন্সের অ্যাকাউন্টে পুরো বেতন পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যাংকিং প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নাসের শাহরিয়ার জাহেদীর ভাষ্য, ১০ আগস্টের মধ্যেই জোন্সের অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। অর্থ পৌঁছানোর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন পোস্ট দেওয়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে হতাশ হয়েছেন বলেও জানান।
এএফসি বাছাই সামনে রেখে ক্যাম্প
আসন্ন এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব সামনে রেখে গত মাস থেকে যশোরের সামসুল হুদা ফুটবল একাডেমিতে আবাসিক ক্যাম্প পরিচালনা করছেন জেরার্ড জোন্স।
এই অবস্থায় জাতীয় দলের একজন বিদেশি কোচের প্রকাশ্য এমন অভিযোগ দেশের ফুটবলাঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে বেতন না পাওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে নিজের জীবন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ কী, কিংবা কী ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি জেরার্ড জোন্স।
প্রতিবেদকের নাম 




















