প্রবীণরা কেবল অতীতের গল্প নন, তারা বর্তমানের শিকড় এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ফলে বিশ্বজুড়ে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে উল্লেখ করে প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করে পুনর্বিন্যাসের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিবসটি পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘দ্য এইজ অব লংজিবিটি: রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস’—অর্থাৎ ‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি ও জীবনমানের উন্নয়নের কারণে সারা বিশ্বেই মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও। দীর্ঘায়ুর এই সময়ে প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বার্ধক্যকে মানুষের স্বাভাবিক জীবনচক্রের অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের প্রবীণ বয়সের জীবন নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া উচিত।
রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদে প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর আলোকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার বয়স্ক ভাতা খাতে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ বাড়িয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রবীণদের অবদানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাদের শ্রম, মেধা ও ত্যাগের ওপর ভর করেই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তবে প্রবীণদের একটি বড় অংশ বর্তমানে স্বাস্থ্যহানি, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে জীবনযাপন করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। তাদের কল্যাণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, বিত্তবান ব্যক্তি ও পরিবারগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বাণীর শেষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব প্রবীণ নাগরিককে শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও শান্তিময় জীবন কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।
প্রতিবেদকের নাম 














