১০ জনের আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত প্রতিরোধ ভেঙে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছে স্পেন। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের পর স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে জানালেন, শুধু ভাগ্য নয়—জয়ের জন্য প্রয়োজন লড়াই, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের রোমাঞ্চকর ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের ১০৬তম মিনিটের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারায় স্পেন। ইউরোপসেরা দলটি দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করে।
ফাইনালের পর দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “ভাগ্যের সঙ্গে আজ আমাদের দেখা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেই ভাগ্যকে আমাদের নিজেদের করে নিতে হয়েছে। শুধু সুযোগ পেলেই হয় না, সেটাকে কাজে লাগানোর সাহসও থাকতে হয়।”

ফেরান তোরেসের জয়সূচক গোলটি স্পেনের ইতিহাসের আরেকটি বিখ্যাত মুহূর্তের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার অতিরিক্ত সময়ের গোলে প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন। এবার তোরেসের গোল হয়ে উঠেছে নতুন প্রজন্মের কাছে একই রকম স্মরণীয় এক অধ্যায়।
তবে ম্যাচটি শুধু ফুটবলীয় লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না। মাঠের ঘটনা, বিতর্ক এবং ম্যাচ শেষে উত্তেজনাও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ম্যাচের ৯৩তম মিনিটে পাউ কুবার্সিকে ফাউল করে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। এরপরও তারা লড়াই চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত স্পেনের চাপ সামলাতে পারেনি।

শেষ বাঁশির পর মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লেয়ান্দ্রো পারদেস সরাসরি লাল কার্ড দেখেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। বিশ্বকাপ ট্রফি ও গোল্ডেন বল তুলে দেওয়ার সময় আর্জেন্টিনা দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের অসন্তোষ নজরে আসে। ম্যাচের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের হতাশা স্পষ্ট ছিল।
এদিকে পরাজয়ের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আজ আমার আত্মা কেঁদে উঠেছে। এই দলের জন্য আমি গর্বিত। ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে আমার কিছু সময় প্রয়োজন।”
স্কালোনি লিওনেল মেসির প্রশংসা করে বলেন, “৩৯ বছর বয়সেও সে যা করেছে, তা অবিশ্বাস্য। সে যতদিন খেলতে চাইবে, ততদিন খেলবে। সে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার।”
তবে ৮ গোল করেও এবার গোল্ডেন বুট জিততে পারেননি মেসি। ১০ গোল করে পুরস্কারটি জিতে নিয়েছেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে।
অন্যদিকে ৬৫ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়েছেন দে লা ফুয়েন্তে। সবচেয়ে বেশি বয়সী কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের কৃতিত্ব এখন তার।
খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে স্প্যানিশ কোচ বলেন, “ড্রেসিংরুমে ছেলেরা আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, এখন আর কী জেতার বাকি আছে? আমি বলেছি, সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। এই দল কখনো থামে না।”
স্পেনের সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে দলীয় ঐক্য ও পারিবারিক বন্ধনের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। দে লা ফুয়েন্তে বলেন, “এই প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে আমি গর্বিত। তারা শুধু একটি দল নয়, একটি পরিবারের মতো। তাদের সঙ্গে এই পথচলা আমার জন্য সম্মানের।”
ফাইনালের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের জয় আরও আগেই নিশ্চিত হতে পারত। এমিলিয়ানো মার্টিনেজ কিছু অসাধারণ সেভ করেছে। কিন্তু বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে হলে কষ্ট করতেই হয়।”
স্পেনের দুর্দান্ত রক্ষণ, উনাই সিমনের গোল্ডেন গ্লাভস, পাউ কুবার্সির সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি এবং অন্যদিকে আর্জেন্টিনার হতাশা ও ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক—সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় অধ্যায় হয়ে থাকল।
প্রতিবেদকের নাম 




















