বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। ঘটনাটিকে মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি এর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে জিএম কাদের এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, মৃত্যুর প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পুলিশি পাহারায় মানিক পশারীর দাফন সম্পন্ন হয়। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা আগে থেকে খোঁড়া কবরটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দেন। পরে তাঁর মেয়ে ও দুই বোন মুঠোফোনের আলোয় নিজেরাই কবর খনন করেন।
জিএম কাদের বলেন, এমন ঘটনা শুধু হৃদয়বিদারক নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের জন্যও অশনিসংকেত।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তির দাবি
মানিক পশারী জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাদীপক্ষের সাক্ষী ছিলেন। তাঁর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পিরোজপুরে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জিএম কাদের।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে কোনো মৃত ব্যক্তির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা বা শোকাহত পরিবারকে হয়রানি করার অধিকার কারও নেই। এ ধরনের ঘটনা ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতিরও পরিপন্থী।
পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান
বিবৃতিতে জিএম কাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর কবর ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষীদের সুরক্ষা এবং এ ঘটনায় প্রশাসনের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় প্রয়াত মানিক পশারীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।
প্রতিবেদকের নাম 





















