ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন Suvendu Adhikari। আর তার শপথের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফের ভাইরাল হয়েছে বহু আলোচিত ‘নারদ স্টিং’ কাণ্ডের পুরোনো ভিডিও, যেখানে তাকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। বিষয়টি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ভিডিওটি প্রকাশ করেছিল Narada News। সেখানে দেখা যায়, তৎকালীন All India Trinamool Congress নেতা শুভেন্দু অধিকারীসহ কয়েকজন নেতাকে টাকার বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিতে। অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন ঘটনায় লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছিল।
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ভিডিওকে বড় রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়েছিল Bharatiya Janata Party। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi বিরোধী প্রচারণায় শুভেন্দুকে দুর্নীতির প্রতীক হিসেবেও তুলে ধরেছিলেন বলে সমালোচকদের দাবি।
তবে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যায় ২০২০ সালে। ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah–এর উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রমে গতি কমে যায় বলে অভিযোগ তোলে তৃণমূল কংগ্রেস।
শুভেন্দুর রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস থেকেই। Mamata Banerjee–এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি দ্রুত রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে ওঠেন। বিশেষ করে ২০০৭ সালের Nandigram Movement তাকে পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।
পরবর্তীতে ২০০৯ ও ২০১৪ সালে লোকসভা সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় পরিবহন ও সেচ দপ্তরের দায়িত্বও পান। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়তে থাকে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও বড় আলোচনায় আসেন শুভেন্দু। আর ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপির মুখ হয়ে লড়ে শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তিনি।
তবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই পুরোনো ‘নারদ’ বিতর্ক নতুন করে সামনে চলে আসায় রাজনৈতিক মহলে নৈতিকতা ও আদর্শ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, যাকে একসময় দুর্নীতিবাজ বলা হয়েছিল, তাকেই এখন নেতৃত্বের আসনে বসিয়েছে বিজেপি।
প্রতিবেদকের নাম 






















