ভারতের অযোধ্যার শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টে সংগৃহীত প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি রুপি দানের অর্থের হিসাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ট্রাস্টের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অনিয়ম ও স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাস্ট গঠনের কয়েক মাস পরই একটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিবেদনে ট্রাস্টের কার্যক্রমকে অপেশাদার আখ্যা দিয়ে অর্থ লেনদেন, হিসাব সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করেছিল। তবে ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও সেই সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি উত্তর প্রদেশ সরকারের গঠিত একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) দানের অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনের পর ট্রাস্টের বিরুদ্ধে দানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ট্রাস্টে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী জমা হলেও সেগুলোর যথাযথ রেকর্ড সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা ছিল না। পাশাপাশি আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের জন্য বহুমাত্রিক অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পৃথক রেজিস্টার সংরক্ষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা কাঠামোরও ঘাটতি ছিল।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ট্রাস্টের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, তথ্য সংরক্ষণ ও নজরদারি প্রক্রিয়াও পর্যাপ্তভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি, যা ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
এদিকে, দানের অর্থ ও গয়নার হিসাব নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়ছে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্ত অবস্থান এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগগুলো প্রমাণিত নয়; বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন।
প্রতিবেদকের নাম 

















