ঢাকা ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
আলিফের একটি চোখের দৃষ্টি পুরোপুরি নষ্টের দাবি সারজিস আলমের বর্তমান সরকারের কার্যক্রম আগের ১৭ বছরের তুলনায় ভালো: আন্দালিব রহমান পার্থ গার্ড অব অনার গ্রহণের মধ্য দিয়ে বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আন্তর্জাতিক ডিজিটাল লেনদেনে নতুন যুগ: পেপাল–পেওনিয়ার–স্ট্রাইপের সঙ্গে অংশীদারত্বের পথ খুলল প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের অপেক্ষায় ভারত, সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের হাসপাতালে ভর্তি ৯৯ শতাংশ শিশুই হামের টিকা পায়নি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল হাসিমাখা সেই তাহসিন মাদরাসাছাত্রকে যৌন নির্যাতন অভিযুক্তকে গণপিটুনি থেকে বাঁচাতে গিয়ে ৮ পুলিশ সদস্য আহত ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৫৩৪ ‘বিশ্বকাপ কোনো পণ্য নয়, ফুটবল বিক্রির অধিকার ফিফার নেই’: উয়েফা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com
রূপপুর প্রকল্পে বিস্ময়কর অনিয়মের অভিযোগ:

রূপপুর প্রকল্পে বিস্ময়কর অনিয়মের অভিযোগ: ২৭ কোটির যন্ত্রপাতির বিল ২১৩ কোটি টাকা

 


দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে বিশেষ নিরীক্ষায়। বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর (ফাপাড)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি হিসাবে প্রায় ২৭ কোটি টাকার বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির বিপরীতে ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। শুধু এই খাতেই অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮৭ কোটি টাকা

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে ২৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকার অডিট আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে। এতে প্রকল্পের ব্যয়, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের জন্য নির্মিত গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পে। ২৩০টি অডিট আপত্তির মধ্যে ১২০টিই এই আবাসন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে। নির্মাণকাজ, যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র কেনা এবং বিল পরিশোধে ব্যাপক অসংগতি ধরা পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চা শিল্পের সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস, গঠিত হচ্ছে সমন্বয় কমিটি

নিরীক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিন সিটির ১১টি ভবনের বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি ও জেনারেটরের সরকারি মূল্য ছিল প্রায় ২৭ কোটি টাকা, অথচ বিল করা হয়েছে ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। একটি ভবনের ক্ষেত্রেই সরকারি মূল্য ছিল ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, কিন্তু একই সরঞ্জামের জন্য বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা

প্রতিবেদনে বহুল আলোচিত ‘বালিশকাণ্ড’-এর বিষয়টিও উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, ৪ হাজার ৭০২টি বালিশের মধ্যে ৬০টির প্রতিটির দাম ধরা হয়েছিল ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা। প্রকৃত মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা হলেও এগুলো কেনা হয়েছে ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকায়, ফলে সরকারের প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে নিরীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগেও থামছে না ককরোচদের আন্দোলন, বহাল দুই দফা দাবি

শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। তাদের পরিদর্শনে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর কোনো হালনাগাদ কর্মপরিকল্পনা প্রকল্প কার্যালয়ে নেই এবং অসমাপ্ত কাজের পূর্ণাঙ্গ তালিকাও সংরক্ষণ করা হয়নি। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট ২০১২ সালের পর আর কোনো বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা জমা দেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  গাজায় হামাসের ড্রোন ইউনিটের শীর্ষ কমান্ডার নিহতের দাবি ইসরায়েলের

রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সাবেক পরিকল্পনা সচিব মো. মামুন আল রশিদ বলেন, এত বড় অঙ্কের অডিট আপত্তি সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ) ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) অনুসরণে গুরুতর দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে প্রকল্প তদারকিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও জবাবদিহি থাকা উচিত বলে তিনি মত দেন।

অন্যদিকে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নিরীক্ষায় চিহ্নিত অনিয়মের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে কার্যকর দুর্নীতি প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

আলিফের একটি চোখের দৃষ্টি পুরোপুরি নষ্টের দাবি সারজিস আলমের

রূপপুর প্রকল্পে বিস্ময়কর অনিয়মের অভিযোগ:

রূপপুর প্রকল্পে বিস্ময়কর অনিয়মের অভিযোগ: ২৭ কোটির যন্ত্রপাতির বিল ২১৩ কোটি টাকা

আপডেটের সময়: ০২:৪৭:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

 


দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে বিশেষ নিরীক্ষায়। বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর (ফাপাড)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি হিসাবে প্রায় ২৭ কোটি টাকার বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির বিপরীতে ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। শুধু এই খাতেই অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮৭ কোটি টাকা

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে ২৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকার অডিট আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে। এতে প্রকল্পের ব্যয়, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের জন্য নির্মিত গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পে। ২৩০টি অডিট আপত্তির মধ্যে ১২০টিই এই আবাসন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে। নির্মাণকাজ, যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র কেনা এবং বিল পরিশোধে ব্যাপক অসংগতি ধরা পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ  দেশের ৮ জেলায় ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত

নিরীক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিন সিটির ১১টি ভবনের বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি ও জেনারেটরের সরকারি মূল্য ছিল প্রায় ২৭ কোটি টাকা, অথচ বিল করা হয়েছে ২১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। একটি ভবনের ক্ষেত্রেই সরকারি মূল্য ছিল ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, কিন্তু একই সরঞ্জামের জন্য বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা

প্রতিবেদনে বহুল আলোচিত ‘বালিশকাণ্ড’-এর বিষয়টিও উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, ৪ হাজার ৭০২টি বালিশের মধ্যে ৬০টির প্রতিটির দাম ধরা হয়েছিল ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা। প্রকৃত মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা হলেও এগুলো কেনা হয়েছে ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকায়, ফলে সরকারের প্রায় ৩ কোটি ৯২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে নিরীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের অপেক্ষায় ভারত, সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের

শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। তাদের পরিদর্শনে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর কোনো হালনাগাদ কর্মপরিকল্পনা প্রকল্প কার্যালয়ে নেই এবং অসমাপ্ত কাজের পূর্ণাঙ্গ তালিকাও সংরক্ষণ করা হয়নি। এছাড়া চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট ২০১২ সালের পর আর কোনো বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা জমা দেয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  মধ্যপ্রাচ্যের গণ্ডি পেরিয়ে নতুন অঞ্চলে ছড়াচ্ছে ইরান-সংঘাত

রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সাবেক পরিকল্পনা সচিব মো. মামুন আল রশিদ বলেন, এত বড় অঙ্কের অডিট আপত্তি সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ) ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) অনুসরণে গুরুতর দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে প্রকল্প তদারকিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও জবাবদিহি থাকা উচিত বলে তিনি মত দেন।

অন্যদিকে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নিরীক্ষায় চিহ্নিত অনিয়মের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে কার্যকর দুর্নীতি প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।