স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অন্য সব মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে পারদর্শী হলেও নিজের মন্ত্রণালয় সামলাতে পারছেন না তিনি। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, মাদক পাচার ও চাঁদাবাজি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, সরকারি দলের একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য সংসদে মাদকের বড় চালান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা দিয়ে আসার কথা বলেছেন বলে তিনি দাবি করেন। এ ছাড়া দিনের বেলায় ৫০টি ট্রাকে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি আড়াল করতে সরকার বিরোধীদের ওপর দায় চাপাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগের আঁতাতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে শফিকুর রহমান বিএনপির সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনের সময় বিএনপি আওয়ামী লীগের সমর্থন চেয়েছিল। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে বিএনপিকে জেতাতে আওয়ামী লীগের ভোট ভূমিকা রেখেছে বলে দলটির নেতারা দাবি করেছেন।
সরকার ও প্রশাসনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াত আমির। তাঁর বক্তব্য, সীমান্ত দিয়ে অর্থ, অস্ত্র ও মাদক প্রবেশের অভিযোগ তুলে বিরোধীদের দায়ী করার আগে সরকারের উচিত এসব প্রবেশ ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অর্থ, অস্ত্র ও মাদক প্রবেশ করলে তা প্রতিরোধে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারছে কি না। সীমান্ত সুরক্ষায় ব্যর্থ হলে সরকারের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দ্রব্যমূল্য ও চাঁদাবাজি নিয়ে সমালোচনা
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি পঞ্চগড়ে কৃষকের লাউয়ের কম দাম পাওয়া এবং ঢাকায় একই পণ্য উচ্চ দামে বিক্রির বিষয়টি তুলে ধরেন।
তাঁর দাবি, চাঁদাবাজির কারণে উৎপাদক ও ভোক্তা—উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় প্রশ্ন
রাড্ডা মেডিকেল সেন্টারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনার উল্লেখ করে জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটিতে রাতে হামলা চালানো হয়েছিল। তাঁর প্রশ্ন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য পদত্যাগ করলেই কি অপরাধের দায় শেষ হয়ে যায়, নাকি তাঁকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন?
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, অপরাধের ঘটনায় কার্যকর আইনি পদক্ষেপের পরিবর্তে দায় এড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সবশেষে চাঁদাবাজির বিস্তার নিয়ে মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বিএনপির সাধারণ কর্মীরাও নিজেদের দলের চাঁদাবাজদের কাছ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠছে।
সভায় দেওয়া বক্তব্যে জামায়াত আমির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য ও চাঁদাবাজি নিয়ে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যের এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিবেদকের নাম 






















