
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার না পাওয়ার আশঙ্কায় বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা একটি সার ডিলারের গুদামের টিনের বেড়া ভেঙে ১৬৭ বস্তা সার নিয়ে গেছেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ইতোমধ্যে ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিসিআইসির অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজে সার বিতরণের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় সার বিতরণে বিলম্ব এবং বরাদ্দের তুলনায় কৃষকের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় সার পাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
একপর্যায়ে সার না পাওয়ার আশঙ্কায় কয়েকজন কৃষক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে তারা ডিলার পয়েন্টের টিনের বেড়া ভেঙে গুদাম থেকে ১৪৩ বস্তা ইউরিয়া ও ২৪ বস্তা এমওপি সার নিয়ে যান।
খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে কৃষকদের মধ্যে অনেকে নিজেদের কাছে থাকা সার ফেরত দেন।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুদ্দিন জানান, শিলখুড়ি ইউনিয়নে সারের চাহিদা প্রায় চার হাজার বস্তা হলেও বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা। এর মধ্যে উত্তোলনের পরিমাণও তুলনামূলক কম ছিল।
তিনি বলেন, সার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই কৃষকেরা গুদাম থেকে সার নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মোট ১৬৭ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩ বস্তা সার ফেরত দিয়েছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুল বলেন, দুপুরে সার বিতরণের প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অবরুদ্ধ করেন। পরে ডিলার পয়েন্টের বেড়া ভেঙে প্রায় ১৪৩ বস্তা ইউরিয়া ও ২৪ বস্তা এমওপি সার নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং পুলিশ প্রশাসনকে পরিস্থিতি সামাল দিতে বেগ পেতে হয়। সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, আগস্ট মাসে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৬৮০ মেট্রিক টন। সেই অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং সার বিতরণ কার্যক্রমও চলছে।
তার দাবি, উপজেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই। মূলত কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়ায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। নিয়ে যাওয়া বাকি সার উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ জানান, শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা এলাকার ডিলার পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে সার বিতরণ চলছিল। এর মধ্যেই হঠাৎ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ইতোমধ্যে কিছু সার উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















