
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ির ছাদে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকেও হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ এসব তথ্য জানান। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার জানান, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে দুই যুবক মাদক সেবন করছিলেন। এতে বাধা দেওয়ায় প্রথমে ওই শিক্ষককে হত্যা করা হয়। এরপর বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পরিবারের অন্য সদস্যদেরও হত্যা করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষককে হত্যার পর তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বিষয়টি বুঝতে পেরে ওপরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকেও হত্যা করা হয়। পরে তাদের ২৫ বছর বয়সী মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। এরপর নিচতলায় থাকা রংপুর জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র প্রিয়মকেও হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার পর তারা ওই বাড়িতেই অবস্থান করে এবং পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে মাদক সেবনের আলামতও পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, গণপতি চক্রবর্তী বা তার পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল না। নিহত প্রীতিলতার বোন পূজা জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ না পেয়ে রাতে তিনি স্বামীকে নিয়ে ওই বাড়িতে যান। সেখানে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে পাশের বাড়ির ভেতর দিয়ে প্রবেশ করে ঘরের ভেতরের পরিস্থিতি দেখতে পান এবং বিষয়টি পুলিশকে জানান।
ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং এরই মধ্যে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















