ইতিহাসের দরজায় কড়া নাড়ার এক গুরুত্বপূর্ণ রাত। একদিকে বিশ্বকাপের অভিজ্ঞ দল সুইজারল্যান্ড, অন্যদিকে নিজেদের মাটিতে প্রথমবার নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্নে উজ্জীবিত কানাডা।
দুই দলই দুই ম্যাচ শেষে চার পয়েন্ট নিয়ে মাঠে নামছে। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা কানাডার সামনে সমীকরণ তুলনামূলক সহজ—জয় কিংবা ড্র হলেই মিলতে পারে ইতিহাস গড়ার সুযোগ।
স্বাগতিক কানাডার বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল মিশ্র অভিজ্ঞতায়। প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সঙ্গে ১-১ ড্র করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে তারা কাতারের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখায়। ৬-০ গোলের বিশাল জয়ে তারা তুলে নেয় নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম জয়।
এই ম্যাচেই কানাডা গড়ে একাধিক রেকর্ড। এক ম্যাচে ছয় গোল করে তারা কনকাকাফ অঞ্চলের কোনো দলের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের নতুন নজির স্থাপন করে। পাশাপাশি ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপে এক ম্যাচে পাঁচের বেশি গোল করার কীর্তিও গড়ে।
তবে সেই জয়ের আনন্দের মাঝেই বড় ধাক্কা খায় কানাডা। মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ইসমাইল কোনে গুরুতর ইনজুরিতে পড়ে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে যান। দলের জন্য এটি বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখছেন কোচ জেসি মার্শ।
আলফোনসো ডেভিস এখনও পুরোপুরি ফিট না হলেও অনুশীলনে ফিরেছেন। তার মাঠে নামা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে ম্যাচের আগে। অন্যদিকে সহ-অধিনায়ক স্টিফেন ইউস্তাকিওর শারীরিক অবস্থাও দুশ্চিন্তার বিষয়।
অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড এসেছে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। প্রথম ম্যাচে ড্র করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ৪-১ গোলে হারিয়ে তারা দারুণ ছন্দে আছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ অপরাজিত তারা।
রক্ষণে তাদের দৃঢ়তা চোখে পড়ার মতো। শেষ পাঁচ ম্যাচে প্রথমার্ধে কোনো গোল হজম করেনি সুইসরা। এই বিশ্বকাপে তাদের বিপক্ষে হওয়া দুই গোলই এসেছে নির্ধারিত সময় শেষে।
দুই দলের মুখোমুখি ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র একবার দেখা হয়েছে, ২০০২ সালে। সেই ম্যাচে কানাডা ৩-১ গোলে জয় পেয়েছিল।
এই ম্যাচে কানাডার ভরসা জনাথন ডেভিড, সাইল লারিন ও আলফোনসো ডেভিস। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের মূল শক্তি গ্রানিত জাকা, মানুয়েল আকাঞ্জি ও ব্রিল এম্বোলো।
ভ্যাঙ্কুভারের আলোয় আজ একদিকে অপেক্ষা করছে ইতিহাসের হাতছানি, অন্যদিকে অভিজ্ঞতার কঠিন পরীক্ষা।
প্রতিবেদকের নাম 

























