
ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি–কে অনেক সময়ই একটি বিশেষ পানীয় পান করতে দেখা যায়। এটি কোনো এনার্জি ড্রিংক নয়, বরং দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী একটি ভেষজ পানীয়—‘ইয়ারবা মাতে’।
এই পানীয় এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় উঠে এসেছে, কারণ মেসিকে প্রায়ই বিশেষ পাত্র ও ধাতব স্ট্র ব্যবহার করে এটি পান করতে দেখা যায়।
ইয়ারবা মাতে কী
ইয়ারবা মাতে হলো একটি ভেষজ পানীয়, যা ‘ইয়ারবা মাতে’ গাছের শুকনো পাতা থেকে তৈরি করা হয়। এটি আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে ও ব্রাজিলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এছাড়া সিরিয়া ও লেবাননের কিছু অংশেও এর প্রচলন রয়েছে।
কীভাবে তৈরি হয়
ইয়ারবা মাতে প্রস্তুত করার জন্য বিশেষ একটি পাত্র ব্যবহার করা হয়, যাকে বলা হয় ‘মাতে’। এটি সাধারণত শুকনো লাউয়ের খোসা দিয়ে তৈরি করা হয়, তবে আধুনিক সময়ে কাঠ, সিরামিক বা ধাতব উপকরণেও তৈরি হয়।
পানীয়টি পান করার জন্য ব্যবহৃত হয় একটি বিশেষ ধাতব স্ট্র, যার নাম ‘বোম্বিজা’। এই স্ট্রের নিচের অংশে ফিল্টার থাকে, যাতে পাতার কুচি পানীয়ের সঙ্গে মিশে না যায়।
তৈরির ধাপগুলো সাধারণত এমন:
প্রথমে শুকনো পাতাগুলো সামান্য ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে নেওয়া হয়। এরপর পাত্রে পাতাগুলো রেখে ধীরে ধীরে হালকা গরম পানি ঢালা হয়। ফুটন্ত পানি ব্যবহার করা হয় না। তারপর বোম্বিজার মাধ্যমে পানীয়টি ধীরে ধীরে পান করা হয়।
অনেকে স্বাদের ভিন্নতার জন্য এতে লেবু, পুদিনা, মধু বা এমনকি কফির গুঁড়োও মেশান।
উপকারিতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়ারবা মাতে তুলনামূলকভাবে কম ক্যাফেইনযুক্ত হওয়ায় এটি কফি বা শক্তিশালী এনার্জি ড্রিংকের মতো অতিরিক্ত উত্তেজনা সৃষ্টি করে না। বরং এটি শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
এটি ক্লান্তি কমাতে, শরীর চনমনে রাখতে এবং হালকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে অতিরিক্ত গ্রহণ সব ক্ষেত্রেই এড়িয়ে চলা উচিত।
দক্ষিণ আমেরিকার সংস্কৃতিতে ইয়ারবা মাতে শুধু পানীয় নয়—এটি সামাজিক আড্ডা ও ঐতিহ্যেরও অংশ।
প্রতিবেদকের নাম 

























