
দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো (নবম জাতীয় পে স্কেল) চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর করা হতে পারে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগায় বর্ধিত বেতনের অর্থ অক্টোবর মাসে একসঙ্গে পরিশোধ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ইতোমধ্যে বাজেটে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারি, বিধিমালা সংশোধন, বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণ ও সফটওয়্যার সমন্বয়সহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
নতুন কাঠামোয় ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের ওপর চাপ বেশি পড়ায় তাদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি নির্ধারণের আলোচনা চলছে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার সরকারি চাকরিজীবীর মধ্যে প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজারই ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের অন্তর্ভুক্ত। ফলে এ বৃহৎ অংশের আয় বৃদ্ধি জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। এ কারণে পুরো বেতন বৃদ্ধি একবারে না করে তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তারা প্রথম বছরে সম্ভাব্য বেতন বৃদ্ধির প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সুবিধা পেতে পারেন। বাকি অংশ পরবর্তী দুই অর্থবছরে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি পেনশন, গ্র্যাচুইটি, অবসরকালীন সুবিধা ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্টেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 





















