স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য নতুন আচরণবিধি চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নতুন বিধিমালায় পোস্টার নিষিদ্ধ করা হলেও ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড ব্যবহারের অনুমতি রাখা হয়েছে। তবে এসব প্রচারসামগ্রীর আকার নির্দিষ্ট করে দিয়েছে কমিশন। প্রথমবারের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিলবোর্ড ব্যবহারেরও সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনলাইন প্রচারে ব্যয় হওয়া অর্থও প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে দেখাতে হবে।
প্রচারণায় সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের অংশগ্রহণেও বিধিনিষেধ থাকছে। মেয়র, চেয়ারম্যান, প্রশাসক কিংবা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।
মাইক, ক্যারাভান ও ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচারের সময়ও বেঁধে দিয়েছে ইসি। দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রচার চালানো যাবে। একই সঙ্গে একাধিক মাইক্রোফোন ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।
নতুন আচরণবিধিতে প্রচারসামগ্রীর ক্ষেত্রেও বেশ কিছু বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। প্রার্থীর ছবি ও নির্বাচনী প্রতীক ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার করা যাবে না। জীবন্ত প্রাণী দিয়ে প্রচারণা চালানো যাবে না। ফেস্টুন ও হ্যান্ডবিলে পলিথিনের আবরণ বা পিভিসি ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তিও কঠোর করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানার পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের বিধানও রাখা হয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নতুন বিধিমালা তৈরি করা হয়েছে। কমিশনে অনুমোদনের পর খসড়াটি এখন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষে এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















