তফসিলি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব কিংবা অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রণীত ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ সংশোধনের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে খসড়াটি লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৬টার পর সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তফসিলি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি, তারল্য সংকট, দেউলিয়াত্ব বা ব্যাংকের অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন যেকোনো ঝুঁকি দ্রুত মোকাবিলা এবং দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ২০২৫ সালে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
পরবর্তী সময়ে অধ্যাদেশটি আইনে রূপ দিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিল আকারে উত্থাপন করা হয়। বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য বিলটি সংসদীয় বিশেষ কমিটির কাছে পাঠানো হলে কমিটি কিছু সংশোধনীসহ তা উপস্থাপনের সুপারিশ করে।
বিশেষ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অধ্যাদেশের কিছু বিধান বিধিমালার মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য আলাদা করা হয়। একই সঙ্গে সরকারের সম্ভাব্য আর্থিক দায়, গ্রাহকদের স্বার্থ এবং দেশের ব্যাংকিং খাতের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আইনে নতুন ১৮ক ধারা যুক্ত করে বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয়। পরে উত্থাপিত আকারেই ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬ পাস হয়।
নতুন ১৮ক ধারা যুক্ত করার উদ্দেশ্য ছিল প্রচলিত রেজল্যুশন ব্যবস্থার পাশাপাশি বাজারভিত্তিক একটি বিকল্প ব্যবস্থা চালু করা। এর মাধ্যমে সংকটে পড়া কোনো ব্যাংককে সচল রেখে পুনর্গঠন, মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট দূর করা, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং সরকারের আর্থিক সম্পৃক্ততা কমানোর সুযোগ তৈরি করার কথা ছিল।
তবে আইনের ১৮ক ধারায় নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন না করায় ধারাটি বিলুপ্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ উদ্দেশ্যেই ‘ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করা হয়। মন্ত্রিসভা সোমবার লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে খসড়াটির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
Your email address will not be published. Required fields are marked *
Massage Box
Name
Email
WebSite