আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, আধুনিক ফুটবলে ভিএআর (VAR) প্রযুক্তি চালুর পর রেফারিদের পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই। আর্জেন্টিনা অন্যায্য সুবিধা পাচ্ছে—এ ধরনের অভিযোগকে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিত্তিহীন গুজব বলে মন্তব্য করেছেন।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনির কাছে আবারও রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ নাকচ করেন।
সম্প্রতি মিসরের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে মিসরের একটি গোল বাতিল হওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্ব্যর্থতার সুযোগ নেই।
তার ভাষায়, “ভিএআর আসার পর রেফারিদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ে স্পষ্টভাবে আঘাত করা হয়েছিল। সেটা কম হোক বা বেশি, এটি নিশ্চিত ফাউল। এর অন্য কোনো ব্যাখ্যা হতে পারে না।”
স্কালোনি আরও বলেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর ফুটবলে কোনো দলকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া কার্যত অসম্ভব। মাঠের প্রতিটি সিদ্ধান্তই প্রযুক্তির সহায়তায় যাচাই করা হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হয়।
আর্জেন্টিনা কোচের দাবি, কিছু মানুষ আর্জেন্টিনার সাফল্য মেনে নিতে পারেন না বলেই এ ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আনা হয়। তবে এসব সমালোচনাকে নেতিবাচকভাবে না নিয়ে বরং দলকে আরও ভালো খেলতে অনুপ্রাণিত করে বলে জানান তিনি।
স্কালোনি বলেন, “১৯৮৬ সালেও বলা হতো আর্জেন্টিনা অন্যায্য সুবিধা নেয়। এসব অভিযোগ নতুন নয়। আর্জেন্টিনা সবসময়ই বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দল ছিল এবং এখনও আছে। যারা আমাদের জিততে দেখতে চায় না, তাদের কথাই এসব। এগুলো আমাদের আরও ভালো ফুটবল খেলতে উৎসাহ দেয়।”
বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্কালোনি। তার মতে, টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে ম্যাচগুলোর মাঝে আরও বেশি বিরতি থাকা উচিত ছিল, যাতে খেলোয়াড়রা পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ পান।
তিনি বলেন, “এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুর দূরত্ব অনেক বেশি। ফলে খেলোয়াড়দের বিশ্রামের সময় কমে যাচ্ছে। সৌভাগ্যক্রমে আমাদের খুব বেশি ভ্রমণ করতে হয়নি। তবে আমরা যদি গ্রুপে দ্বিতীয় হতাম, তাহলে প্রায় পুরো যুক্তরাষ্ট্রই ভ্রমণ করতে হতো।”
প্রতিবেদকের নাম 




















