ঢাকা ০৯:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
রংপুরে একই পরিবারের ৪ জন নিহত: মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যার দাবি পুলিশের ডক্টর ফুড’ গ্রেপ্তার, খাবারের আড়ালে মাদক পাচারের অভিযোগ রাতেই ১০ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে: আইনমন্ত্রী সরকারের কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরতে হবে: তথ্যমন্ত্রী চিনিতে লোকসান, অ্যালকোহলে বাজিমাত—কেরুর মুনাফা ছাড়াল ১৬৫ কোটি টাকা প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনায় নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ যে পথে হেঁটেছে, বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে পদ্মা ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা প্রধান সড়কে ডেকোরেটিভ পোল বসাবে ডিএনসিসি: প্রশাসক
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চারজন হত্যায় আটক ২, মাদক সেবনে বাধা দেওয়াই কারণ!

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে সিদ্ধার্থ (২০) ও মুগ্ধ (২৩) নামে ওই দুই যুবককে আটক করা হয়।
রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে একে একে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ কমিশনার জানান, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে বসে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ মাদক সেবন করছিলেন। তারা প্রায়ই সেখানে মাদক সেবন ও আড্ডা দিতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
ওই রাতে গণপতি চক্রবর্তী তাদের মাদক সেবনের বিষয়টি দেখে ফেলেন। এরপর তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বেরিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। পরে মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম তাদের দেখে ফেলায় তাদেরও হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য দিয়েছেন আটকরা।
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর বাড়িতে ঢুকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যান তারা। তবে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গণপতির মরদেহ পাওয়া যায় তার দোতলা বাড়ির ছাদে। তার স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগমনী চক্রবর্তীর মরদেহ ছিল ছাদে ওঠার সিঁড়িতে। আর ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ পাওয়া যায় খাটের নিচে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে পরিবারের কাউকে বাইরে দেখা যায়নি। শনিবার রাতের দিকে বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পরিবারের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির তালা ভেঙে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সর্বশেষ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। শনিবার তাদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সব ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে স্বজনদের নিয়ে বাড়িতে গিয়ে প্রধান ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান তারা।
তিনি জানান, এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। ওই সময় বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তারা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে।
নিহত গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর রংপুর সমবায় মার্কেটের একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিতেন তিনি।
তার মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাস্টার্স শেষ করে তিনি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আর ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ আছে কি না এবং ঘটনার পেছনে আরও কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  গ্যাস সরবরাহ সচল রাখতে দরপত্র ছাড়াই ১৪ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার
T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

রংপুরে একই পরিবারের ৪ জন নিহত: মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যার দাবি পুলিশের

রংপুরে শিক্ষক পরিবারের চারজন হত্যায় আটক ২, মাদক সেবনে বাধা দেওয়াই কারণ!

আপডেটের সময়: ০৪:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকা থেকে সিদ্ধার্থ (২০) ও মুগ্ধ (২৩) নামে ওই দুই যুবককে আটক করা হয়।
রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার আবদুল মাবুদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে একে একে তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ কমিশনার জানান, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গভীর রাতে গণপতি চক্রবর্তীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে বসে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ মাদক সেবন করছিলেন। তারা প্রায়ই সেখানে মাদক সেবন ও আড্ডা দিতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।
ওই রাতে গণপতি চক্রবর্তী তাদের মাদক সেবনের বিষয়টি দেখে ফেলেন। এরপর তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বেরিয়ে এলে তাকেও হত্যা করা হয়। পরে মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম তাদের দেখে ফেলায় তাদেরও হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য দিয়েছেন আটকরা।
পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর বাড়িতে ঢুকে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যান তারা। তবে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গণপতির মরদেহ পাওয়া যায় তার দোতলা বাড়ির ছাদে। তার স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগমনী চক্রবর্তীর মরদেহ ছিল ছাদে ওঠার সিঁড়িতে। আর ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ পাওয়া যায় খাটের নিচে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে পরিবারের কাউকে বাইরে দেখা যায়নি। শনিবার রাতের দিকে বাড়ির ভেতর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পরিবারের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির তালা ভেঙে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সর্বশেষ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। শনিবার তাদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সব ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে স্বজনদের নিয়ে বাড়িতে গিয়ে প্রধান ফটক বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান তারা।
তিনি জানান, এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। ওই সময় বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন ছিল।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। তারা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে।
নিহত গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর রংপুর সমবায় মার্কেটের একটি হোমিওপ্যাথি চেম্বারে চিকিৎসাসেবা দিতেন তিনি।
তার মেয়ে আগমনী চক্রবর্তী প্রার্থী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। মাস্টার্স শেষ করে তিনি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আর ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ আছে কি না এবং ঘটনার পেছনে আরও কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

আরও পড়ুনঃ  স্টার্কের তোপে ফের ব্যাটিং বিপর্যয়, ম্যাকাই টেস্টে চাপে বাংলাদেশ