রাজধানীর বাড্ডায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাসায় ঢুকে মো. রানা (৩৫) নামে এক যুবককে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হোসেন মার্কেটের পেছনে ময়নারবাগ বউবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ রানা পেশায় গাড়িচালক। পরে রাত ২টার দিকে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাঁর ডান পায়ের হাঁটুর ওপরের অংশে গুলি লেগেছে।
ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় গুলির অভিযোগ
রানা জানান, ঘটনার দিন বিকেল ৩টার দিকে উত্তর বাড্ডায় পরিচিত জয় নামের এক ব্যক্তির বাসায় দাওয়াত খেতে যান তিনি। পরে একটি কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। ওই সময় কক্ষে তাঁর ছোট ভাই ও জয়ও ছিলেন।
রানার ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ১০টার দিকে বাসার দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনে ভেতর থেকে পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। বাইরে থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় জয় দরজা খুলে বাইরে কাউকে দেখতে পাননি। এরপর তিনি বাসার মূল ফটকের দিকে এগিয়ে যান।
রানা অভিযোগ করেন, এ সময় তামিমসহ আরও দুজন ভেতরের দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। তাঁরা গালিগালাজ করতে করতে বিছানায় শুয়ে থাকা রানার ডান পায়ে গুলি করেন। পরে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
তামিমের বিরুদ্ধে রানার অভিযোগ
রানা দাবি করেন, একই এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে তামিম তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে তাঁর ডান পায়ের হাঁটুর ওপরের অংশে গুলি লাগে।
রানার স্বজনদের অভিযোগ, তাঁর বড় ভাইয়ের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে তামিম নিয়মিত চাঁদা দাবি করতেন। তবে রানা তাঁকে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনার জেরেই হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তাঁরা।
স্বজনদের আরও দাবি, তামিমের বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলাও রয়েছে।
ঢামেকে চিকিৎসাধীন রানা
রানার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর মাইজদী এলাকায়। তাঁর বাবা মৃত আবদুর রব। বর্তমানে তিনি রাজধানীর ভাটারার নতুন বাজার কাজীবাড়ি এলাকায় বসবাস করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, রাতে বাড্ডা এলাকা থেকে রানা নামে এক যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। পরে তাঁকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















