ঢাকা ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বঙ্গোপসাগর-আন্দামান সাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, বৃষ্টি হতে পারে চট্টগ্রাম বিভাগে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা: কোন বিভাগে ফরম পূরণে কত টাকা লাগবে ১ জানুয়ারির মধ্যে ১০ম গ্রেড চান প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা অভাবে ম্লান দুর্গাপূজার আনন্দ, নতুন পোশাক কিনতে পারেনি উলিপুরের ২০০ রবিদাস পরিবার ‘সরকার বা ব্যক্তির নয়, জনগণের জন্য কাজ করবে তথ্য কমিশন’: অধ্যাপক নাহরিন সাদা নাকি হলুদ ঘি—পুষ্টিগুণ ও উপকারিতায় কোনটি এগিয়ে? কমল স্বর্ণের দাম, সনাতন পদ্ধতিতে ১ ভরি মিলছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৮ টাকায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, ডিসিকে ‘চুড়ি পরে বসে থাকার’ কটূক্তি জামায়াত নেতার ‘ক্ষমতার জন্য বিএনপির সঙ্গে থাকলেও জামায়াতের মনে আওয়ামী লীগ’, মন্তব্য রিজভীর হাসপাতালের সড়ক সংস্কারের বরাদ্দে নেতার বাড়ির পথ পাকা, দুর্ভোগে অন্তঃসত্ত্বারা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

অভাবে ম্লান দুর্গাপূজার আনন্দ, নতুন পোশাক কিনতে পারেনি উলিপুরের ২০০ রবিদাস পরিবার

কুড়িগ্রামের উলিপুরে দুর্গাপূজা এলেও আনন্দের ছোঁয়া লাগেনি দুই শতাধিক দরিদ্র রবিদাস পরিবারের ঘরে। আর্থিক সংকটে সন্তানদের জন্য নতুন পোশাক কিনতে পারেননি অনেকেই। নিত্যদিনের খাবার ও সংসারের খরচ জোগাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। অন্য বছর পূজা উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পেলেও এবার সরকারি-বেসরকারি কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় হতাশ এসব পরিবার।

দুই শতাধিক পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উলিপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৮০০ রবিদাস পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে দুই শতাধিক পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পরিবার নানা সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই যেখানে কষ্ট হয়, সেখানে দুর্গাপূজা উপলক্ষে নতুন পোশাক কিংবা বাড়তি খাবারের ব্যবস্থা করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  নোয়াখালীতে চুরির অভিযোগে যুবককে পিটুনি, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার তেঁতুলতলা এলাকার রবিদাস সম্প্রদায়ের বসতিতে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গাপূজা ঘিরে পরিবারগুলোর মধ্যে তেমন উৎসবের আমেজ নেই।

নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্য নেই

ভুলুয়া রবিদাস (৬৩) বলেন, উৎসব শুরু হলেও তাঁদের মতো দরিদ্র পরিবারের মধ্যে আনন্দ নেই। অতি কষ্টে দিন কাটছে। ছেলে-মেয়েদের নতুন জামাকাপড় কিনে দেওয়ার সামর্থ্য নেই। ব্যবসাও প্রায় অচল। যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। অন্য বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পেলেও এবার কোনো সহায়তা পাননি তাঁরা।

আরও পড়ুনঃ  নরসিংদীর পলাশে শিয়ালের কামড়ে নারী-পুরুষসহ আহত ১০

জোসনা রবিদাস (৫৫) বলেন, পূজা উপলক্ষে নতুন কাপড় কেনা হয়নি। তিনবেলা পেট ভরে খাওয়াই কষ্টকর। পূজার দ্বিতীয় দিন চললেও তাঁদের ঘরে উৎসবের আনন্দ নেই।

ধামশ্রেনী ইউনিয়নের ইন্দারার পাড় এলাকার চৈতা রবিদাস (৭৭) এবং বজরা ইউনিয়নের বাবুর হাট এলাকার কার্তিক রবিদাসসহ অনেকে জানান, অর্থাভাবে পূজার কেনাকাটা করতে পারেননি তাঁরা। বছরে একবার দুর্গাপূজার আনন্দ এলেও দারিদ্র্যের কারণে সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তাঁদের অভিযোগ।

আগের বছরের সহায়তা এবার মেলেনি

উপজেলা রবিদাস সম্প্রদায়ের সাধারণ সম্পাদক অনিল রবিদাস বলেন, অন্য বছর সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল, কাপড়, ধুতি ও লুঙ্গি দেওয়া হলেও এবার কিছুই পাওয়া যায়নি। সম্প্রদায়ের অনেক পরিবার অত্যন্ত কষ্টে সংসার চালাচ্ছে। পূজা উপলক্ষে সহায়তা পেলে এসব পরিবার উপকৃত হতো।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান, পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

দরিদ্র পরিবারগুলোকে সহায়তার আশ্বাস

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) খন্দকার মো. ফিজানুর রহমান বলেন, রবিদাস সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। আগের বছরগুলোতে পূজা উপলক্ষে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দরিদ্র রবিদাস পরিবারগুলোর মধ্যে কাপড় বিতরণ করবেন বলে শুনেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম. আরিফ বলেন, রবিদাস সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে যাঁরা দরিদ্র, তাঁদের সহায়তা করা হবে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বঙ্গোপসাগর-আন্দামান সাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, বৃষ্টি হতে পারে চট্টগ্রাম বিভাগে

অভাবে ম্লান দুর্গাপূজার আনন্দ, নতুন পোশাক কিনতে পারেনি উলিপুরের ২০০ রবিদাস পরিবার

আপডেটের সময়: ০৬:৩০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

কুড়িগ্রামের উলিপুরে দুর্গাপূজা এলেও আনন্দের ছোঁয়া লাগেনি দুই শতাধিক দরিদ্র রবিদাস পরিবারের ঘরে। আর্থিক সংকটে সন্তানদের জন্য নতুন পোশাক কিনতে পারেননি অনেকেই। নিত্যদিনের খাবার ও সংসারের খরচ জোগাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁদের। অন্য বছর পূজা উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পেলেও এবার সরকারি-বেসরকারি কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় হতাশ এসব পরিবার।

দুই শতাধিক পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উলিপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৮০০ রবিদাস পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে দুই শতাধিক পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব পরিবার নানা সংকটের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই যেখানে কষ্ট হয়, সেখানে দুর্গাপূজা উপলক্ষে নতুন পোশাক কিংবা বাড়তি খাবারের ব্যবস্থা করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  আইভীর দুই আইনজীবীকে চার দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার তেঁতুলতলা এলাকার রবিদাস সম্প্রদায়ের বসতিতে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গাপূজা ঘিরে পরিবারগুলোর মধ্যে তেমন উৎসবের আমেজ নেই।

নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্য নেই

ভুলুয়া রবিদাস (৬৩) বলেন, উৎসব শুরু হলেও তাঁদের মতো দরিদ্র পরিবারের মধ্যে আনন্দ নেই। অতি কষ্টে দিন কাটছে। ছেলে-মেয়েদের নতুন জামাকাপড় কিনে দেওয়ার সামর্থ্য নেই। ব্যবসাও প্রায় অচল। যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। অন্য বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পেলেও এবার কোনো সহায়তা পাননি তাঁরা।

আরও পড়ুনঃ  নরসিংদীর পলাশে শিয়ালের কামড়ে নারী-পুরুষসহ আহত ১০

জোসনা রবিদাস (৫৫) বলেন, পূজা উপলক্ষে নতুন কাপড় কেনা হয়নি। তিনবেলা পেট ভরে খাওয়াই কষ্টকর। পূজার দ্বিতীয় দিন চললেও তাঁদের ঘরে উৎসবের আনন্দ নেই।

ধামশ্রেনী ইউনিয়নের ইন্দারার পাড় এলাকার চৈতা রবিদাস (৭৭) এবং বজরা ইউনিয়নের বাবুর হাট এলাকার কার্তিক রবিদাসসহ অনেকে জানান, অর্থাভাবে পূজার কেনাকাটা করতে পারেননি তাঁরা। বছরে একবার দুর্গাপূজার আনন্দ এলেও দারিদ্র্যের কারণে সেই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে তাঁদের অভিযোগ।

আগের বছরের সহায়তা এবার মেলেনি

উপজেলা রবিদাস সম্প্রদায়ের সাধারণ সম্পাদক অনিল রবিদাস বলেন, অন্য বছর সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল, কাপড়, ধুতি ও লুঙ্গি দেওয়া হলেও এবার কিছুই পাওয়া যায়নি। সম্প্রদায়ের অনেক পরিবার অত্যন্ত কষ্টে সংসার চালাচ্ছে। পূজা উপলক্ষে সহায়তা পেলে এসব পরিবার উপকৃত হতো।

আরও পড়ুনঃ  জরুরি রক্ষণাবেক্ষণে নাটোরে টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ

দরিদ্র পরিবারগুলোকে সহায়তার আশ্বাস

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) খন্দকার মো. ফিজানুর রহমান বলেন, রবিদাস সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। আগের বছরগুলোতে পূজা উপলক্ষে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দরিদ্র রবিদাস পরিবারগুলোর মধ্যে কাপড় বিতরণ করবেন বলে শুনেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.টি.এম. আরিফ বলেন, রবিদাস সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে যাঁরা দরিদ্র, তাঁদের সহায়তা করা হবে।