ঢাকা ০৬:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

‘সংবিধানের নেশা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে’: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

সংবিধানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অবস্থান ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, সংবিধান মেনেও দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটানো সম্ভব হয়নি। তাই সংবিধানের প্রতি অন্ধ নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, সংবিধান মেনে চললে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না বলে তিনি মনে করেন। তাহলে সেই নির্বাচন না হলে বর্তমান সরকার কীভাবে ক্ষমতায় এল এবং বিরোধী দলই বা কীভাবে গঠিত হলো—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সংবিধান শুধু ফ্যাসিবাদের জন্ম দেয়নি, বরং তা দীর্ঘস্থায়ী করার চেষ্টাও করেছে।

আরও পড়ুনঃ  জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীর হাতে সাইকেল, বিনামূল্যে চক্ষুসেবা পেলেন ৪ হাজার মানুষ

জামায়াত আমির বলেন, সাড়ে ১৫ বছর ধরে সংবিধান মেনেই সভা-সমাবেশ ও মিছিল করতে হয়েছে। কিন্তু তাতে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটেনি। জামায়াতসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও তখন পরিবর্তন আনতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় বিএনপির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা কারাগারে ছিলেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান অতীতের একটি আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সে সময় শেখ হাসিনার শাসনের অবসান ঘটতে ২০৪১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে আলোচনা হয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পরিবর্তনের সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন বলে জানান।

আরও পড়ুনঃ  জলবায়ু পরিবর্তন ও সামাজিক সুরক্ষায় উইনরকের ভূমিকার প্রশংসা স্পিকারের

নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জামায়াত সভা-সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি পায়নি। তাঁর দাবি, সাড়ে ১৫ বছরে দলটি মাত্র দুটি সভা করার সুযোগ পেয়েছিল, সেগুলোরও অনুমতি দেওয়া হয়নি। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর অনুমতি না পেলেও সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁরা।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন

জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্য ছিল, সেগুলোতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু যেসব বিষয়ে ভিন্নমত জানানো হয়নি, সেগুলোও এখন উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  ডেঙ্গুতে আরও ৭ জনের মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১,৩৭৩ রোগী

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সনদ স্বাক্ষরের স্থান নির্ধারণের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সংসদে বসেই অতীতে জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে যেন একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্কবার্তা দিতেই স্থানটি বেছে নেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আলোচনা শুরু হয়। সাত মাসের বেশি সময় ধরে আলোচনার পর অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘সংবিধানের নেশা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে’: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

আপডেটের সময়: ০৩:৫৫:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

সংবিধানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অবস্থান ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, সংবিধান মেনেও দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটানো সম্ভব হয়নি। তাই সংবিধানের প্রতি অন্ধ নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, সংবিধান মেনে চললে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না বলে তিনি মনে করেন। তাহলে সেই নির্বাচন না হলে বর্তমান সরকার কীভাবে ক্ষমতায় এল এবং বিরোধী দলই বা কীভাবে গঠিত হলো—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সংবিধান শুধু ফ্যাসিবাদের জন্ম দেয়নি, বরং তা দীর্ঘস্থায়ী করার চেষ্টাও করেছে।

আরও পড়ুনঃ  জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীর হাতে সাইকেল, বিনামূল্যে চক্ষুসেবা পেলেন ৪ হাজার মানুষ

জামায়াত আমির বলেন, সাড়ে ১৫ বছর ধরে সংবিধান মেনেই সভা-সমাবেশ ও মিছিল করতে হয়েছে। কিন্তু তাতে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটেনি। জামায়াতসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও তখন পরিবর্তন আনতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় বিএনপির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা কারাগারে ছিলেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান অতীতের একটি আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সে সময় শেখ হাসিনার শাসনের অবসান ঘটতে ২০৪১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে আলোচনা হয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পরিবর্তনের সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন বলে জানান।

আরও পড়ুনঃ  জলবায়ু পরিবর্তন ও সামাজিক সুরক্ষায় উইনরকের ভূমিকার প্রশংসা স্পিকারের

নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জামায়াত সভা-সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি পায়নি। তাঁর দাবি, সাড়ে ১৫ বছরে দলটি মাত্র দুটি সভা করার সুযোগ পেয়েছিল, সেগুলোরও অনুমতি দেওয়া হয়নি। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর অনুমতি না পেলেও সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁরা।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন

জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্য ছিল, সেগুলোতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু যেসব বিষয়ে ভিন্নমত জানানো হয়নি, সেগুলোও এখন উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকিতে সাময়িক বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সনদ স্বাক্ষরের স্থান নির্ধারণের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সংসদে বসেই অতীতে জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে যেন একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্কবার্তা দিতেই স্থানটি বেছে নেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আলোচনা শুরু হয়। সাত মাসের বেশি সময় ধরে আলোচনার পর অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়।