ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
হামের উপসর্গে এক দিনে আরও ৫ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১,৩৫৬ জামালপুরে মক্তব শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির সম্ভাবনাও খোলা ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২২৪৯ নারায়ণগঞ্জে বাসা থেকে কুবি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, স্বামী আটক মাঠে ২ টাকার লাউ ঢাকায় ৬০ টাকা, ন্যায্যমূল্য না পেয়ে বিপাকে পঞ্চগড়ের কৃষক জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ মালিকদের দ্বন্দ্বে কিশোরগঞ্জ-মহাখালী রুটে বাস বন্ধ, দুর্ভোগে যাত্রীরা ইরান যুদ্ধকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বললেন ওবামা, পাল্টা আক্রমণ ট্রাম্পের ‘সব মন্ত্রণালয় নিয়ে পারদর্শী, শুধু নিজেরটা সামলাতে পারেন না’—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে শফিকুর রহমান
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

‘সংবিধানের নেশা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে’: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

সংবিধানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অবস্থান ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, সংবিধান মেনেও দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটানো সম্ভব হয়নি। তাই সংবিধানের প্রতি অন্ধ নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, সংবিধান মেনে চললে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না বলে তিনি মনে করেন। তাহলে সেই নির্বাচন না হলে বর্তমান সরকার কীভাবে ক্ষমতায় এল এবং বিরোধী দলই বা কীভাবে গঠিত হলো—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সংবিধান শুধু ফ্যাসিবাদের জন্ম দেয়নি, বরং তা দীর্ঘস্থায়ী করার চেষ্টাও করেছে।

আরও পড়ুনঃ  সড়ক-ফুটপাতে হকার বসলেই মামলা, মালামাল জব্দ

জামায়াত আমির বলেন, সাড়ে ১৫ বছর ধরে সংবিধান মেনেই সভা-সমাবেশ ও মিছিল করতে হয়েছে। কিন্তু তাতে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটেনি। জামায়াতসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও তখন পরিবর্তন আনতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় বিএনপির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা কারাগারে ছিলেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান অতীতের একটি আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সে সময় শেখ হাসিনার শাসনের অবসান ঘটতে ২০৪১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে আলোচনা হয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পরিবর্তনের সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন বলে জানান।

আরও পড়ুনঃ  সৌদির দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলা, নিহত ১ ও আহত ৮

নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জামায়াত সভা-সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি পায়নি। তাঁর দাবি, সাড়ে ১৫ বছরে দলটি মাত্র দুটি সভা করার সুযোগ পেয়েছিল, সেগুলোরও অনুমতি দেওয়া হয়নি। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর অনুমতি না পেলেও সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁরা।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন

জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্য ছিল, সেগুলোতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু যেসব বিষয়ে ভিন্নমত জানানো হয়নি, সেগুলোও এখন উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  এনসিপি সরকার গঠন করলে কোন মন্ত্রণালয় চান পাটওয়ারী, জানালেন অন্যদের সম্ভাব্য দায়িত্বও

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সনদ স্বাক্ষরের স্থান নির্ধারণের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সংসদে বসেই অতীতে জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে যেন একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্কবার্তা দিতেই স্থানটি বেছে নেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আলোচনা শুরু হয়। সাত মাসের বেশি সময় ধরে আলোচনার পর অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

হামের উপসর্গে এক দিনে আরও ৫ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১,৩৫৬

‘সংবিধানের নেশা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে’: জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

আপডেটের সময়: ০৩:৫৫:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

সংবিধানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অবস্থান ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, সংবিধান মেনেও দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটানো সম্ভব হয়নি। তাই সংবিধানের প্রতি অন্ধ নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান প্রশ্ন তুলে বলেন, সংবিধান মেনে চললে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না বলে তিনি মনে করেন। তাহলে সেই নির্বাচন না হলে বর্তমান সরকার কীভাবে ক্ষমতায় এল এবং বিরোধী দলই বা কীভাবে গঠিত হলো—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সংবিধান শুধু ফ্যাসিবাদের জন্ম দেয়নি, বরং তা দীর্ঘস্থায়ী করার চেষ্টাও করেছে।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকা-সৌদি রুটে ১৩৪ ফ্লাইট বাতিল-স্থগিত, ভোগান্তিতে ২০ হাজার যাত্রী

জামায়াত আমির বলেন, সাড়ে ১৫ বছর ধরে সংবিধান মেনেই সভা-সমাবেশ ও মিছিল করতে হয়েছে। কিন্তু তাতে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটেনি। জামায়াতসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও তখন পরিবর্তন আনতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় বিএনপির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা কারাগারে ছিলেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান অতীতের একটি আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সে সময় শেখ হাসিনার শাসনের অবসান ঘটতে ২০৪১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে আলোচনা হয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পরিবর্তনের সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন বলে জানান।

আরও পড়ুনঃ  এনসিপি সরকার গঠন করলে কোন মন্ত্রণালয় চান পাটওয়ারী, জানালেন অন্যদের সম্ভাব্য দায়িত্বও

নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জামায়াত সভা-সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি পায়নি। তাঁর দাবি, সাড়ে ১৫ বছরে দলটি মাত্র দুটি সভা করার সুযোগ পেয়েছিল, সেগুলোরও অনুমতি দেওয়া হয়নি। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর অনুমতি না পেলেও সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁরা।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন

জুলাই জাতীয় সনদ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতপার্থক্য ছিল, সেগুলোতে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু যেসব বিষয়ে ভিন্নমত জানানো হয়নি, সেগুলোও এখন উপেক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাম্পের ‘মাদার অব অল বোম্বস’-এর জবাবে নতুন অস্ত্র উন্মোচনের ঘোষণা ইরানের

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সনদ স্বাক্ষরের স্থান নির্ধারণের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সংসদে বসেই অতীতে জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে যেন একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্কবার্তা দিতেই স্থানটি বেছে নেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আলোচনা শুরু হয়। সাত মাসের বেশি সময় ধরে আলোচনার পর অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়।