ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

বেতন নিয়ে অসন্তোষে স্থবির পোশাকশিল্প, একসঙ্গে কর্মহীন সাত লাখের বেশি শ্রমিক

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১১:৩৯:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ২৮ সময় দেখুন

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে। বিক্ষোভ, কর্মবিরতি ও সড়ক অবরোধের প্রভাবে একাধিক এলাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে কারখানা বন্ধ ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন সাত লাখেরও বেশি শ্রমিক।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট ৩১৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানায় কর্মরত ৭ লাখ ২ হাজার ২৫৫ জন শ্রমিক কাজ না করে বেরিয়ে এসেছেন।

বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এলাকায় থাকা ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৬৮টি বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানার ৫১ হাজার ৬২৫ জন শ্রমিক কাজে যোগ দেননি।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরের সাইনবোর্ড এলাকায় হঠাৎ উত্তেজনা, মহাসড়কে কী ঘটল

অন্যদিকে, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ শিল্পাঞ্চলের ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে বন্ধ রয়েছে ২২৫টি। এ দুই অঞ্চলে কর্মহীন হয়েছেন ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক।

এ ছাড়া সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলের ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২৫টি বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানার ১ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন শ্রমিক কাজ থেকে বিরত রয়েছেন।

বিজিএমইএর দেওয়া তথ্য বলছে, পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট পোশাক কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ১৩৪টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৮১৬টি কারখানা চালু থাকলেও শ্রম অসন্তোষের কারণে বন্ধ রয়েছে ৩১৮টি।

এদিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি চাকরির ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের বেশি প্রাধান্য দেওয়ায় পুরুষ শ্রমিকেরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন তারা। এসব কারণেই ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকেরা।

আরও পড়ুনঃ  এসআরবির নতুন মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ

শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল হক সজীব জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানার মালিকেরা ছুটি ঘোষণা করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদস্যরা মাঠে রয়েছেন।

শিল্প পুলিশ আশুলিয়া জোনের পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম বলেন, যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক নিজেরাই কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন।

অন্যদিকে, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করতে গাজীপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, নাওজোড় ও ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিজিবি সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  যাত্রাবাড়ীর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জানাল ডিবি

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিকে ঘিরে সৃষ্ট অসন্তোষ যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্ম না দেয়, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে নজরদারি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি আরও জানায়, গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকাগুলোতে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বেতন নিয়ে অসন্তোষে স্থবির পোশাকশিল্প, একসঙ্গে কর্মহীন সাত লাখের বেশি শ্রমিক

আপডেটের সময়: ১১:৩৯:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে। বিক্ষোভ, কর্মবিরতি ও সড়ক অবরোধের প্রভাবে একাধিক এলাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে কারখানা বন্ধ ও সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন সাত লাখেরও বেশি শ্রমিক।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট ৩১৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানায় কর্মরত ৭ লাখ ২ হাজার ২৫৫ জন শ্রমিক কাজ না করে বেরিয়ে এসেছেন।

বিজিএমইএর হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এলাকায় থাকা ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৬৮টি বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানার ৫১ হাজার ৬২৫ জন শ্রমিক কাজে যোগ দেননি।

আরও পড়ুনঃ  পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা

অন্যদিকে, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ শিল্পাঞ্চলের ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে বন্ধ রয়েছে ২২৫টি। এ দুই অঞ্চলে কর্মহীন হয়েছেন ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক।

এ ছাড়া সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলের ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২৫টি বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানার ১ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন শ্রমিক কাজ থেকে বিরত রয়েছেন।

বিজিএমইএর দেওয়া তথ্য বলছে, পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট পোশাক কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ১৩৪টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৮১৬টি কারখানা চালু থাকলেও শ্রম অসন্তোষের কারণে বন্ধ রয়েছে ৩১৮টি।

এদিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি চাকরির ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের বেশি প্রাধান্য দেওয়ায় পুরুষ শ্রমিকেরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন তারা। এসব কারণেই ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শ্রমিকেরা।

আরও পড়ুনঃ  ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাস সংকট: অফিসগামীদের ভোগান্তির চরম রূপ

শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল হক সজীব জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানার মালিকেরা ছুটি ঘোষণা করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সদস্যরা মাঠে রয়েছেন।

শিল্প পুলিশ আশুলিয়া জোনের পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম বলেন, যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক নিজেরাই কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন।

অন্যদিকে, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করতে গাজীপুরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রোববার চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, নাওজোড় ও ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিজিবি সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরের সাইনবোর্ড এলাকায় হঠাৎ উত্তেজনা, মহাসড়কে কী ঘটল

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিকে ঘিরে সৃষ্ট অসন্তোষ যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্ম না দেয়, সে জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে নজরদারি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবি আরও জানায়, গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত এলাকাগুলোতে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।