ঢাকা ০৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

নামের বিভ্রান্তিতে ১০ মাস কারাভোগ, আলমাসকে মুক্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

অস্ত্র আইনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির সঙ্গে নামের মিল থাকায় ভুল করে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মো. আলমাস। বিনা অপরাধে টানা ১০ মাস কারাভোগের পর তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার (৮ নভেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন হানিফ।

মামলার নথি ও বিচারিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মিরপুর থানার একটি অস্ত্র আইনের মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত প্রকৃত আসামির নাম মো. আলমাছ। তিনি ঢাকার দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব ধোয়াইর গ্রামের মো. খলিলুর রহমানের ছেলে। মামলার শুরু থেকেই তিনি পলাতক এবং বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন।

আরও পড়ুনঃ  ঝাড়ফুঁকের আড়ালে কিশোরীকে নির্যাতনের অভিযোগ, কবিরাজ আটক

অন্যদিকে, ভুল করে গ্রেপ্তার হওয়া মো. আলমাস দোহারের কুসুমহাটি এলাকার বাসিন্দা শেখ খলিলের ছেলে। কোনো অপরাধে জড়িত না থাকলেও তাঁকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে মুক্তির আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট পুরো ঘটনা বিচারিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান অনুসন্ধান করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে ভুল ব্যক্তি শনাক্তের পেছনে পুলিশি তদন্তে গুরুতর ত্রুটি ও গাফিলতির বিষয় উঠে আসে। এতে বলা হয়, মূল মামলার ফরোয়ার্ডিং, পুলিশ প্রতিবেদন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আসামির ঠিকানা নিয়ে ভুল ছিল। ২০০৭ সালের আগে গ্রেপ্তার আলমাস দক্ষিণ বাহ্রা ডাকঘরের অধীন বাহ্রা গ্রামে বসবাস করতেন। অন্যদিকে মূল আসামি আলমাছের গ্রাম পূর্ব ধোয়াইরও একই ডাকঘরের অধীন হওয়ায় ঠিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। দুজনের বাবার নামেও কিছুটা সাদৃশ্য থাকলেও নথিপত্রে স্পষ্ট পার্থক্য ছিল।

আরও পড়ুনঃ  ঠাকুরগাঁওয়ে ৩১ সার ডিলারের ২৮ জন বিএনপি-সংশ্লিষ্ট, স্বজনদের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আলমাসের বাবার নাম শেখ খলিল এবং দাদার নাম শেখ নওয়াব আলী। অন্যদিকে, এজাহারে সাজাপ্রাপ্ত আলমাছের বাবার নাম খলিল আহম্মেদ ও দাদার নাম শেখ শহর আলী উল্লেখ রয়েছে। পারিবারিক গঠনেও দুজনের মধ্যে পার্থক্য পাওয়া যায়। প্রকৃত আসামি আলমাছ তিন বোনের একমাত্র ভাই। আর গ্রেপ্তার আলমাসের পরিবারে দুই ভাই ও দুই বোন।

দুজনের বয়স ও পেশার পার্থক্যও তদন্তে উঠে এসেছে। ২০০২ সালে মূল মামলার সময় আলমাছের বয়স ছিল ২৪ বছর। সে হিসাবে ২০২৬ সালে তাঁর বয়স প্রায় ৪৮ বছর। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার আলমাসের জন্ম ১৯৮৫ সালের ১০ ডিসেম্বর। ২০০২ সালে তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর এবং বর্তমানে ৪১ বছর। বয়সের এই সাত বছরের পার্থক্য এবং পেশাগত ভিন্নতাও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  দীর্ঘ বিরতির পর খুলছে সেন্টমার্টিন, পর্যটক বাড়লেও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

এজাহার অনুযায়ী, মূল আসামি ঢাকার মিরপুরের পাইকপাড়ায় বসবাস করতেন। সেখানে তাঁর নির্দিষ্ট পেশার উল্লেখ ছিল না। বিপরীতে, গ্রেপ্তার আলমাস গ্রামে কৃষিকাজ ও ইলেকট্রিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

বিচারিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ এবং বয়স ও পেশাসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট নিশ্চিত হন, বিদেশে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও কারাগারে থাকা আলমাস সম্পূর্ণ আলাদা ব্যক্তি। এ অবস্থায় নিরপরাধ আলমাসকে অবিলম্বে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

নামের বিভ্রান্তিতে ১০ মাস কারাভোগ, আলমাসকে মুক্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

আপডেটের সময়: ০২:৫৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

অস্ত্র আইনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামির সঙ্গে নামের মিল থাকায় ভুল করে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন মো. আলমাস। বিনা অপরাধে টানা ১০ মাস কারাভোগের পর তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার (৮ নভেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন হানিফ।

মামলার নথি ও বিচারিক অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মিরপুর থানার একটি অস্ত্র আইনের মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত প্রকৃত আসামির নাম মো. আলমাছ। তিনি ঢাকার দোহার উপজেলার নয়াবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব ধোয়াইর গ্রামের মো. খলিলুর রহমানের ছেলে। মামলার শুরু থেকেই তিনি পলাতক এবং বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন।

আরও পড়ুনঃ  ঝাড়ফুঁকের আড়ালে কিশোরীকে নির্যাতনের অভিযোগ, কবিরাজ আটক

অন্যদিকে, ভুল করে গ্রেপ্তার হওয়া মো. আলমাস দোহারের কুসুমহাটি এলাকার বাসিন্দা শেখ খলিলের ছেলে। কোনো অপরাধে জড়িত না থাকলেও তাঁকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে মুক্তির আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন তিনি।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট পুরো ঘটনা বিচারিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান অনুসন্ধান করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনে ভুল ব্যক্তি শনাক্তের পেছনে পুলিশি তদন্তে গুরুতর ত্রুটি ও গাফিলতির বিষয় উঠে আসে। এতে বলা হয়, মূল মামলার ফরোয়ার্ডিং, পুলিশ প্রতিবেদন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আসামির ঠিকানা নিয়ে ভুল ছিল। ২০০৭ সালের আগে গ্রেপ্তার আলমাস দক্ষিণ বাহ্রা ডাকঘরের অধীন বাহ্রা গ্রামে বসবাস করতেন। অন্যদিকে মূল আসামি আলমাছের গ্রাম পূর্ব ধোয়াইরও একই ডাকঘরের অধীন হওয়ায় ঠিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। দুজনের বাবার নামেও কিছুটা সাদৃশ্য থাকলেও নথিপত্রে স্পষ্ট পার্থক্য ছিল।

আরও পড়ুনঃ  সুনামগঞ্জে বিএনপির উদ্যোগে ৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আলমাসের বাবার নাম শেখ খলিল এবং দাদার নাম শেখ নওয়াব আলী। অন্যদিকে, এজাহারে সাজাপ্রাপ্ত আলমাছের বাবার নাম খলিল আহম্মেদ ও দাদার নাম শেখ শহর আলী উল্লেখ রয়েছে। পারিবারিক গঠনেও দুজনের মধ্যে পার্থক্য পাওয়া যায়। প্রকৃত আসামি আলমাছ তিন বোনের একমাত্র ভাই। আর গ্রেপ্তার আলমাসের পরিবারে দুই ভাই ও দুই বোন।

দুজনের বয়স ও পেশার পার্থক্যও তদন্তে উঠে এসেছে। ২০০২ সালে মূল মামলার সময় আলমাছের বয়স ছিল ২৪ বছর। সে হিসাবে ২০২৬ সালে তাঁর বয়স প্রায় ৪৮ বছর। অন্যদিকে, গ্রেপ্তার আলমাসের জন্ম ১৯৮৫ সালের ১০ ডিসেম্বর। ২০০২ সালে তাঁর বয়স ছিল ১৭ বছর এবং বর্তমানে ৪১ বছর। বয়সের এই সাত বছরের পার্থক্য এবং পেশাগত ভিন্নতাও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা

এজাহার অনুযায়ী, মূল আসামি ঢাকার মিরপুরের পাইকপাড়ায় বসবাস করতেন। সেখানে তাঁর নির্দিষ্ট পেশার উল্লেখ ছিল না। বিপরীতে, গ্রেপ্তার আলমাস গ্রামে কৃষিকাজ ও ইলেকট্রিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

বিচারিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ এবং বয়স ও পেশাসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট নিশ্চিত হন, বিদেশে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও কারাগারে থাকা আলমাস সম্পূর্ণ আলাদা ব্যক্তি। এ অবস্থায় নিরপরাধ আলমাসকে অবিলম্বে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।