
দেশে সময়মতো টিকা না পাওয়া এবং ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন ব্যাহত হওয়ায় হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ও মৃত্যুহার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে অপুষ্টি ও মায়ের বুকের দুধ কম পাওয়াও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে ও হামের উপসর্গে অন্তত ৩৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও সাত শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও সময়মতো টিকা না দেওয়া এবং ভিটামিন এ-এর ঘাটতির কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপুষ্টি ও মায়ের বুকের দুধ কম খাওয়ার প্রবণতা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে (ইপিআই) লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা দরকার হলেও বাস্তবে তা ৮২ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনও নিয়মিতভাবে পরিচালিত না হওয়ায় শিশুদের দৃষ্টিশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে মায়ের দুধ খাওয়ানোর হারও কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একজন বলেন, “টিকা, পুষ্টি এবং সচেতনতা—এই তিনটি বিষয় ঠিকমতো না থাকায় শিশুরা সহজেই সংক্রমণের শিকার হচ্ছে এবং মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, নিয়মিত ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন পুনরায় চালু এবং পুষ্টি বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।





















