
কুমিল্লার দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া বর্তমানে পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জিসানের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক পাওয়া গেছে। তবে তিনি নিজেকে অসুস্থ দাবি করায় এখনো তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত। ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ে এড়াতে জিসান আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। তদন্তে জানা যায়, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে ওই নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে গর্ভপাতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। বিয়ের চাপের মুখে তিনি আত্মগোপনে যান বলেও পুলিশের ভাষ্য।
শুক্রবার রাতে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়টি জানার পর থেকে চোখ না খোলা ও অসংলগ্ন আচরণ শুরু করেন।
জিসানের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নে চার সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডে মেডিসিন, অ্যানেসথেসিয়া, নিউরো মেডিসিন ও মনোরোগবিদ্যা বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রয়েছেন। সোমবার বোর্ডের চূড়ান্ত মতামতের পর তাকে আদালতে পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দাউদকান্দি মডেল থানায় জিসানসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অপর তিন আসামি সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীব হাসানকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, জিসান মিয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
প্রতিবেদকের নাম 
























