ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত। মঙ্গলবার ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছে তেহরান।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সামরিক স্থাপনা, মাইন পাতা সংক্রান্ত সক্ষমতা এবং যোগাযোগ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, আহভাজ শহরের কাছে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেসামরিক জিরোফট বিমানবন্দরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া চাবাহার, বান্দার আব্বাস ও গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসকেন্দ্র আসালুয়েহতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কেশম দ্বীপেও বিস্ফোরণের খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম।
এরপরই পাল্টা জবাব দেয় তেহরান। জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরান।
এদিকে ইরানের উপকূলীয় এলাকা সিরিকের কাছে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলায় পাঁচজন নিহত ও অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট। দেশটির বার্তা সংস্থা মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে চার বছরের একটি শিশুও রয়েছে। তবে আহতের সংখ্যা ৬৮ জন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ওয়াশিংটন।
হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে উত্তেজনা
সংঘাতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেল পরিবহনপথ কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান।
এর মধ্যেই সোমবার প্রণালি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে। এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি চার ডলারের বেশি বেড়ে যায়। এতে তেলের দাম পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ক্রমাগত পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
প্রতিবেদকের নাম 




















