
মানুষের জীবনে বরকত এমন এক অমূল্য নিয়ামত, যা শুধু সম্পদের প্রাচুর্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং অল্প সম্পদে তৃপ্তি, সময়ের সঠিক ব্যবহার, ইবাদতে স্বাদ, পরিবারে শান্তি এবং কর্মে সফলতার মধ্যেই বরকতের প্রকৃত প্রকাশ ঘটে। আমাদের আশপাশের অনেককে অধিক পরিমাণে উপার্জন করতে দেখা যায়; কিন্তু দিনশেষে তারা অশান্তি ও হতাশার গল্প শোনান। এর কারণ হলো, চলার পথে তার কিছু গোনাহ ও ভুল অভ্যাস এমন আছে, যা অজান্তেই জীবন থেকে বরকত কেড়ে নিয়েছে।
নিচে কালবেলার পাঠকদের জন্য এমনই চারটি অভ্যাসের কথা তুলে ধরা হলো:
১. মিথ্যা ও প্রতারণা
মিথ্যা ও প্রতারণা বরকত ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও লেনদেনের ক্ষেত্রে অসততা মানুষের উপার্জনকে বরকতহীন করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ক্রেতা ও বিক্রেতা যদি সত্য কথা বলে এবং পণ্যের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করে, তবে তাদের লেনদেনে বরকত দেওয়া হয়। আর যদি তারা মিথ্যা বলে এবং দোষ গোপন করে, তবে তাদের লেনদেনের বরকত মুছে ফেলা হয়। (বোখারি: ২০৭৯)
নামাজে ওঠা-বসার তাকবিরগুলো কখন আদায় করবেন?
অতএব, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত লাভ সাময়িকভাবে বেশি মনে হলেও তা প্রকৃত অর্থে কল্যাণ ও বরকত থেকে বঞ্চিত করে।
বিতর নামাজে দোয়া কুনুত না পড়ে রুকুতে চলে গেলে যা করতে হবে
২. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়; এটি বরকত লাভেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক প্রশস্ত হোক এবং তার আয়ুতে বরকত দেওয়া হোক, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে (বোখারি: ৫৯৮৬)। যেখানে সম্পর্ক রক্ষা বরকতের কারণ, সেখানে সম্পর্ক ছিন্ন করা নিঃসন্দেহে বরকত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ।
৩. সুদ ও হারাম উপার্জন
সুদ, ঘুষ, প্রতারণা, জালিয়াতি কিংবা মানুষের হক নষ্ট করে অর্জিত সম্পদ বাহ্যিকভাবে বাড়লেও তাতে বরকত থাকে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং সদকাকে বৃদ্ধি করেন। (সুরা আল বাকারা: ২৭৬)
তাফসিরবিদগণ বলেন, এখানে ‘নিশ্চিহ্ন’ করার অর্থ শুধু সম্পদ কমে যাওয়া নয়; বরং সেই সম্পদের বরকত, কল্যাণ ও শান্তি উঠে যাওয়াও এর অন্তর্ভুক্ত। (তাফসিরে ইবনে কাসির: ১/৬১৩)
- ৪. দিনের প্রথম ভাগকে অবহেলা করা
সকালের সময়কে আল্লাহ তাআলা বিশেষ বরকতময় করেছেন। অথচ অনেকেই দিনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়টি ঘুম, অলসতা বা অপ্রয়োজনীয় কাজে নষ্ট করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করেছেন, ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য দিনের প্রথম ভাগে বরকত দান করুন’। (আবু দাউদ: ২৬০৬)
তাই ফজরের পরের সময়কে ঘুমের মধ্যে না কাটিয়ে, ইবাদত, জ্ঞানার্জন ও জীবিকার কাজে ব্যয় করা বরকত অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার কালবেলাকে বলেন, বরকত কখনো অর্থ দিয়ে কেনা যায় না; এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ। তাই জীবনের বরকত ধরে রাখতে হলে মিথ্যা ও প্রতারণা বর্জন করতে হবে, আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখতে হবে, সুদ ও হারাম উপার্জন থেকে দূরে থাকতে হবে, দিনের প্রথম ভাগকে মূল্য দিতে হবে এবং অলসতাকে পরিহার করতে হবে।
নামাজে ওঠা-বসার তাকবিরগুলো কখন আদায় করবেন?
প্রত্যেক মুসলমানের ওপর নামাজ ফরজ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা আমার স্মরণোদ্দেশ্যে নামাজ কায়েম করো।’ (সুরা ত্বহা : ১৪)
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তুমি সূর্য হেলার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম করো এবং ফজরের নামাজ (কায়েম কর)। নিশ্চয়ই ফজরের নামাজে সমাবেশ ঘটে।’ (সুরা বনি ইসরাঈল : ৭৮)
রাব্বুল আলামিন আরও বলছেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে’ (সুরা আনকাবুত : ৪৫)। অর্থাৎ, প্রকৃত নামাজি সব ধরনের অশ্লীলতা ও অনৈতিকতা থেকে নিজেকে দূরে রাখেন।
নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে অনেকেই একটি বিষয় নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন যে, নামাজে ওঠা-বসার তাকবিরগুলো কখন আদায় করতে হবে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত গবেষণাধর্মী ইসলামিক ওয়েব পোর্টাল মুসিলম বাংলার এক বিশ্লেষণে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন রাজধানীর জামিয়া ইমাম বুখারির উস্তাযুল ইফতা মাওলানা সাইদুজ্জামান কাসেমি।
বিতর নামাজে দোয়া কুনুত না পড়ে রুকুতে চলে গেলে যা করতে হবে
তিনি বলেন, নামাজে ওঠা-বসার তাকবিরগুলো (এমনিভাবে সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ) আদায়ের সুন্নত তরিকা হলো, যখন কোনো রোকন শেষ হবে তখন তাকবির বলা শুরু করবে এবং পরবর্তী রোকনে গিয়ে শেষ হবে। যে রোকন শেষ হয়েছে সেখানেই তাকবির বলা অথবা পরবর্তী রোকনে পৌঁছে তারপর তাকবির বলা সঠিক নয়। ফোকাহায়ে কেরাম এটাকে মাকরুহ বলে উল্লেখ করেছেন। তা ছাড়া জামাতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে অনেক মুসল্লির নামাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাই ইমাম সাহেবদের বিষয়টি খেয়াল করা উচিত। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/১৩১)
একই সুরা দুই রাকাতে পড়লে নামাজে কোনো সমস্যা হবে কি?
ویکبر مع الانحطاط، کذا في ”الہدایة“ قال الطحاوي: وہو الصحیح کذا في ”معراج الدرایة“ فیکون ابتداء تکبیرہ عند أول الخرور والفراغ عند الاستواء للرکوع کذا في ”المحیط“․ (الفتاوی الہندیة: ۱/ ۱۳۱، ط: دار الکتب العلمیة بیروت)
(وُیُکرہ) أن یأتي بالأذکار المشروعة في الانتقالات بعد تمام الانتقال․․․ بأن یکبر للرکوع بعد الانتہاء إلی حد الرکوع ویقول سمع اللہ لمن حمدہ بعد تمام القیام (کبیري: ۳۵۷)
والله اعلم بالصواب
Arif 



















