জীবন চালাতে টানা ২১ বছর রাস্তায় রাস্তায় ভাঙারি ও পুরোনো জিনিসপত্র সংগ্রহ করে বিক্রি করেছেন ৭১ বছর বয়সী চীনা বৃদ্ধ ‘রু’। অথচ এত বছর পর তিনি জানতে পারলেন, তার নামে থাকা একটি পেনশন অ্যাকাউন্টে জমে আছে চার লাখ ২৪ হাজার ২০৪ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭২ লাখ টাকার সমান।
চীনের মধ্যাঞ্চলীয় হুনান প্রদেশের বাসিন্দা রু এতদিন জানতেনই না যে তিনি সরকারি পেনশন সুবিধার আওতায় পড়েন। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সমাজসেবা দপ্তরের সহায়তায় পেনশন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যাংক কার্ড হাতে পান তিনি। পরে অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স পরীক্ষা করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থের সন্ধান পান।
অ্যাকাউন্টে থাকা টাকার পরিমাণ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বৃদ্ধ। এত অর্থ জমে আছে দেখে প্রথমে নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে পাওয়া এই সহায়তার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রু।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মজীবনের শুরুতে হুনান প্রদেশের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০ বছর চাকরি করেন রু। ২০০০ সালের শুরুর দিকে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই হলে চাকরি হারান তিনি। এ সময় এককালীন কিছু অর্থ পেলেও অল্পদিনের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়। এরপর আর্থিক সংকটে পড়ে জীবিকার সন্ধানে চাংদে শহরে চলে যান। সেখানে শুরু করেন ভাঙারি সংগ্রহের কাজ, যা টানা দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে করে আসছিলেন।
২০২৪ সালের শীতকালে সমাজকল্যাণ কর্মীরা তাকে একটি পরিত্যক্ত ভবনে অত্যন্ত দুরবস্থার মধ্যে বসবাস করতে দেখেন। শুরুতে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে অনিচ্ছুক ছিলেন রু। পরে কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ও মানবিক সহায়তায় তিনি নিজের অতীত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেন। সেখান থেকেই বেরিয়ে আসে তার পেনশন পাওয়ার বিষয়টি।
তথ্য যাচাই করে কর্মকর্তারা জানতে পারেন, ২০১৫ সালে অবসরের বয়সে পৌঁছানোর পর থেকেই রু সরকারি পেনশন পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী তার মাসিক পেনশন নির্ধারিত হয়েছিল প্রায় ৩ হাজার ৭০০ ইউয়ান। দীর্ঘদিনের জমা অর্থই শেষ পর্যন্ত চার লাখ ২৪ হাজার ২০৪ ইউয়ানে পৌঁছায়।
রুর ধারণা ছিল, পেনশন পেতে হলে আগে বড় অঙ্কের বিমা কিস্তি আলাদাভাবে পরিশোধ করতে হয়। দরিদ্র হওয়ায় সেটি তার পক্ষে সম্ভব নয় বলেই তিনি মনে করতেন। কিন্তু সরকারি নথি যাচাইয়ের পর কর্মকর্তারা জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে ৩০ বছর চাকরির সময়ই তার বেতন থেকে প্রয়োজনীয় বিমার অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছিল। ফলে তার অজান্তেই পেনশনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জমা হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত সমাজসেবা কর্মীরা রুর হাতে তার পেনশন অ্যাকাউন্টের ব্যাংক কার্ড তুলে দেন। পাশাপাশি জমানো অর্থ নিরাপদে এবং প্রয়োজন বুঝে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহারের পরামর্শ দেন তারা।
প্রতিবেদকের নাম 























