ঢাকা ০১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ফ্লাইদুবাই বিমান ছিনতাই হলে ভূপাতিতের প্রস্তুতি ছিল ইসরাইলের মেয়ের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট সিআইডি কর্মকর্তা ‘ঘুষ খাওয়ার জন্যই পুলিশের পোশাক পরেছি’ মন্তব্য, চুনারুঘাটের এএসআই ক্লোজড রিকশাচালক আল আমিন হত্যা মামলায় সাবেক এমপি নাঈমুজ্জামান গ্রেফতার আলোহীন এডেন: বিদ্যুৎ সংকটে হাসপাতালেও থমকে যাচ্ছে চিকিৎসাসেবা অনিয়ম ঠেকাতে ঢাকায় লটারিতে ১৮ সাবরেজিস্ট্রার বদলি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে প্রশ্নের মুখে জামায়াত, দ্রুত সাংগঠনিক পদক্ষেপেই সামলানোর চেষ্টা দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, ১৭ অক্টোবর সরকারি অফিস খোলা টেস্টে নতুন ওপেনার খুঁজছে নির্বাচকরা, ভাবনায় মাহফিজুল ইসলাম রবিন রাজধানীতে ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেফতার ৪৪৭
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

আলোহীন এডেন: বিদ্যুৎ সংকটে হাসপাতালেও থমকে যাচ্ছে চিকিৎসাসেবা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১১:৫৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১২ সময় দেখুন

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরম ও অন্ধকারের মধ্যে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন শহরের বাসিন্দারা। তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকে ছাড়িয়ে সংকটের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে হাসপাতালগুলোতে। বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে জরুরি চিকিৎসাসেবাও।

উপকূলীয় শহর এডেনে দীর্ঘদিন ধরেই প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্যান ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়। রাতে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে, আর দিনের বেলায় স্বাভাবিক কাজকর্মও ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থীদের বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আগেই পড়াশোনা ও প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করার চেষ্টা করতে হয়।

গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে অনেক শিশু ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। তরুণ ও পরিবারের সদস্যদের অনেকেই ছুটে যান সমুদ্রের তীরে। ঠান্ডা বাতাসের আশায় সেখানে কিছুটা সময় কাটান তারা।

আরও পড়ুনঃ  মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদে আত্মঘাতী হামলার গুজব, আটক ১

তবে হাসপাতালগুলোর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। বিদ্যুৎ না থাকলেও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। অস্ত্রোপচার, জরুরি চিকিৎসা, রোগীর জীবন রক্ষাকারী যন্ত্রসহ হাসপাতালের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের জন্যই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন।

ইয়েমেনের বিদ্যুৎ সংকট অবশ্য যুদ্ধ শুরুর আগ থেকেই চলে আসছে। যুদ্ধের আগে দেশটির মোট জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ৫৫ শতাংশ কোনো না কোনো উৎস থেকে বিদ্যুৎ সুবিধা পেত। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে এ হার ছিল অন্যতম কম।

২০১৫ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, জ্বালানি সংকট এবং পুরোনো উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। এডেনের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও নিয়মিত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

আরও পড়ুনঃ  নেব্রাস্কায় ট্রাম্পের সমাবেশ, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পাশে থাকার আহ্বান

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলতি বছরের এক মূল্যায়ন অনুযায়ী, কাঠামোগত দুর্বলতা ও জ্বালানি সংকটের কারণে এডেনে দিনে মাত্র দুই থেকে ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে এডেনের অনেক এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তখন ব্যাটারি কিংবা সৌরবিদ্যুৎচালিত ছোট বাতিই হয়ে ওঠে ভরসা। কখন বিদ্যুৎ আসবে কিংবা ফিরে আসার পর কতক্ষণ থাকবে—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

গ্রীষ্মকালে সংকট আরও তীব্র হয়। এ সময় এডেনের তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরের ভেতর গরম ও অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়। বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, সূর্য ডুবে যাওয়ার পরও তাপমাত্রা খুব একটা কমে না।

এক বাসিন্দার ভাষায়, কখনো কখনো ঘুমের মধ্যেই বিদ্যুৎ চলে আসে। তখন বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে ঘুম থেকে উঠতে হয়। কখন বিদ্যুৎ আসছে আর কখন যাচ্ছে, সেটিই যেন তাদের জীবনের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নেপালে তুষারধসে ১৫ পর্বতারোহী কর্মীর মৃত্যু, উদ্ধার অভিযান চলছে

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়ছে পরিবারের দৈনন্দিন জীবনেও। শিশুরা ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমনকি ঘরের অনেক সাধারণ কাজও বিদ্যুৎ আসা পর্যন্ত আটকে রাখতে হচ্ছে।

দিনের শেষভাগে তাই এডেনের সমুদ্রতীরে মানুষের ভিড় বাড়ে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যরা সেখানে জড়ো হন। কেউ পানিতে নামেন, কেউ আবার সমুদ্রের ধারে বসে কিছুটা স্বস্তির বাতাস পাওয়ার অপেক্ষা করেন।

যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্বল অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে এডেনের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এখন চরম ভঙ্গুর। আর এই সংকট শুধু অন্ধকারে থাকার দুর্ভোগই তৈরি করছে না—হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতেও তৈরি করছে জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকি।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ফ্লাইদুবাই বিমান ছিনতাই হলে ভূপাতিতের প্রস্তুতি ছিল ইসরাইলের

আলোহীন এডেন: বিদ্যুৎ সংকটে হাসপাতালেও থমকে যাচ্ছে চিকিৎসাসেবা

আপডেটের সময়: ১১:৫৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেনে দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন মানুষের নিত্যদিনের বাস্তবতা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরম ও অন্ধকারের মধ্যে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন শহরের বাসিন্দারা। তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিকে ছাড়িয়ে সংকটের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে হাসপাতালগুলোতে। বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে জরুরি চিকিৎসাসেবাও।

উপকূলীয় শহর এডেনে দীর্ঘদিন ধরেই প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্যান ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়। রাতে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে, আর দিনের বেলায় স্বাভাবিক কাজকর্মও ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থীদের বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আগেই পড়াশোনা ও প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করার চেষ্টা করতে হয়।

গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে অনেক শিশু ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। তরুণ ও পরিবারের সদস্যদের অনেকেই ছুটে যান সমুদ্রের তীরে। ঠান্ডা বাতাসের আশায় সেখানে কিছুটা সময় কাটান তারা।

আরও পড়ুনঃ  জ্বালানির বাজার স্থিতিশীল রাখতে জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ছাড়বে জি-৭

তবে হাসপাতালগুলোর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। বিদ্যুৎ না থাকলেও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। অস্ত্রোপচার, জরুরি চিকিৎসা, রোগীর জীবন রক্ষাকারী যন্ত্রসহ হাসপাতালের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের জন্যই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন।

ইয়েমেনের বিদ্যুৎ সংকট অবশ্য যুদ্ধ শুরুর আগ থেকেই চলে আসছে। যুদ্ধের আগে দেশটির মোট জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ৫৫ শতাংশ কোনো না কোনো উৎস থেকে বিদ্যুৎ সুবিধা পেত। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে এ হার ছিল অন্যতম কম।

২০১৫ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, জ্বালানি সংকট এবং পুরোনো উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। এডেনের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও নিয়মিত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।

আরও পড়ুনঃ  ইসরায়েলগামী বিমানে হামলার অভিযোগ, অভিযুক্ত কো-পাইলটের পরিচয় প্রকাশ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলতি বছরের এক মূল্যায়ন অনুযায়ী, কাঠামোগত দুর্বলতা ও জ্বালানি সংকটের কারণে এডেনে দিনে মাত্র দুই থেকে ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে এডেনের অনেক এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তখন ব্যাটারি কিংবা সৌরবিদ্যুৎচালিত ছোট বাতিই হয়ে ওঠে ভরসা। কখন বিদ্যুৎ আসবে কিংবা ফিরে আসার পর কতক্ষণ থাকবে—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

গ্রীষ্মকালে সংকট আরও তীব্র হয়। এ সময় এডেনের তাপমাত্রা প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরের ভেতর গরম ও অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়। বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, সূর্য ডুবে যাওয়ার পরও তাপমাত্রা খুব একটা কমে না।

এক বাসিন্দার ভাষায়, কখনো কখনো ঘুমের মধ্যেই বিদ্যুৎ চলে আসে। তখন বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে ঘুম থেকে উঠতে হয়। কখন বিদ্যুৎ আসছে আর কখন যাচ্ছে, সেটিই যেন তাদের জীবনের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ছাড়া ভোটে অংশ নেওয়া অর্থহীন: অভিজিৎ দীপকে

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়ছে পরিবারের দৈনন্দিন জীবনেও। শিশুরা ঠিকমতো ঘুমাতে পারছে না, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমনকি ঘরের অনেক সাধারণ কাজও বিদ্যুৎ আসা পর্যন্ত আটকে রাখতে হচ্ছে।

দিনের শেষভাগে তাই এডেনের সমুদ্রতীরে মানুষের ভিড় বাড়ে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যরা সেখানে জড়ো হন। কেউ পানিতে নামেন, কেউ আবার সমুদ্রের ধারে বসে কিছুটা স্বস্তির বাতাস পাওয়ার অপেক্ষা করেন।

যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্বল অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে এডেনের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এখন চরম ভঙ্গুর। আর এই সংকট শুধু অন্ধকারে থাকার দুর্ভোগই তৈরি করছে না—হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতেও তৈরি করছে জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকি।