ঢাকা ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ডিম খেতে ভালোবাসেন? জেনে নিন প্রতিদিন কতটি ডিম খাওয়া নিরাপদ তিন দিনের সফরে আজ ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গর ৩০ জুলাইয়ের স্বর্ণের দাম: ২২ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৭ টাকা এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ ঘিরে সিলেটের ৫ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েন দিনভর বাধার পর রাতে হবিগঞ্জে এনসিপির মামলা, আসামি ১১ আলিফের একটি চোখের দৃষ্টি পুরোপুরি নষ্টের দাবি সারজিস আলমের বর্তমান সরকারের কার্যক্রম আগের ১৭ বছরের তুলনায় ভালো: আন্দালিব রহমান পার্থ গার্ড অব অনার গ্রহণের মধ্য দিয়ে বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আন্তর্জাতিক ডিজিটাল লেনদেনে নতুন যুগ: পেপাল–পেওনিয়ার–স্ট্রাইপের সঙ্গে অংশীদারত্বের পথ খুলল প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের অপেক্ষায় ভারত, সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ নিরাপত্তাকর্মী, ১০ মাসেও মেলেনি কোনো সন্ধান

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার গথিয়া খালে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া নিরাপত্তাকর্মী আবদুল কাইয়ুমের (৫৮) এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। ঘটনার প্রায় ১০ মাস পার হলেও তার রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার কারণ উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরিবারের সদস্যরা এখনও প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের মাওলানা সমাজ এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাইয়ুম জাল নিয়ে গথিয়া খালে মাছ ধরতে যান। দুপুরে ধরা মাছ বড় ভাইয়ের মাধ্যমে বাড়িতে পাঠালেও এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরদিন স্থানীয় জেলে, এলাকাবাসী এবং ফুলগাজী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা খালজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি চালান। তৎকালীন ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মালাকার চন্দ্রের নেতৃত্বে কয়েক ঘণ্টার অনুসন্ধানেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে তার স্ত্রী সালমা বেগম ফুলগাজী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

আরও পড়ুনঃ  ১ আগস্ট থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, না থাকলে মিলবে না রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক মাস পর ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। গত বছরের ২৯ অক্টোবর একই খালে মাছ ধরতে গিয়ে প্রতিবেশী আবদুল হাই কাইয়ুমের ব্যবহৃত জাল উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার সময় জালটি তার হাতের সঙ্গে বাঁধা ছিল। ফলে এক মাস পর সেটি কীভাবে খুলে পানিতে ভেসে উঠল, সেই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা। জাল উদ্ধারের পর আবারও খালে অনুসন্ধান চালানো হলেও কোনো নতুন আলামত পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘদিন ফেনী শহরের সাউথইস্ট ব্যাংকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন আবদুল কাইয়ুম। পরিবারের সদস্যরা জানান, নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পরই ফেনী রেলগেট এলাকার ইসলামী ব্যাংকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু সেই নতুন কর্মজীবন আর শুরুই করা হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  ‘বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দল বললে জ্ঞানের অভাবেরই পরিচয়’—মির্জা ফখরুল

কাইয়ুমের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, “মরে গেলেও যদি তার হাড়গোড়টা পেতাম, তাহলে অন্তত জানতাম মানুষটা আর নেই। এই না পাওয়া, না জানার কষ্টটাই সবচেয়ে বড়। সংসারে এখন আয় করার কেউ নেই। ৮ বছরের পালক সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন মিয়াজি বলেন, প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও মানুষটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। জাল উদ্ধার হলেও মানুষটির সন্ধান না মেলায় পুরো ঘটনাটি এখনও রহস্য হয়ে আছে।

কাইয়ুমের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম বলেন, কাইয়ুম ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ। কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না। কীভাবে তিনি নিখোঁজ হলেন, তা আজও কেউ বলতে পারছে না। তার পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

আরও পড়ুনঃ  সময়মতো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় শিল্পখাতে গ্যাস সংকট: বিটিএমএ সভাপতি, সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রতিবেশী বেলাল হোসেন জানান, জীবনে অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে কাইয়ুমকে। নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তার রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সবাই হতবাক।

ফুলগাজী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের বর্তমান ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. তারেকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় ডুবুরি দল নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল। কিন্তু সব চেষ্টা সত্ত্বেও আবদুল কাইয়ুমের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তার যোগদানের আগের। তিনি বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানবেন বলে জানিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ডিম খেতে ভালোবাসেন? জেনে নিন প্রতিদিন কতটি ডিম খাওয়া নিরাপদ

মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ নিরাপত্তাকর্মী, ১০ মাসেও মেলেনি কোনো সন্ধান

আপডেটের সময়: ০৬:৩১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার গথিয়া খালে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া নিরাপত্তাকর্মী আবদুল কাইয়ুমের (৫৮) এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি। ঘটনার প্রায় ১০ মাস পার হলেও তার রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার কারণ উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরিবারের সদস্যরা এখনও প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নের মাওলানা সমাজ এলাকার বাসিন্দা আবদুল কাইয়ুম জাল নিয়ে গথিয়া খালে মাছ ধরতে যান। দুপুরে ধরা মাছ বড় ভাইয়ের মাধ্যমে বাড়িতে পাঠালেও এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরদিন স্থানীয় জেলে, এলাকাবাসী এবং ফুলগাজী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা খালজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি চালান। তৎকালীন ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মালাকার চন্দ্রের নেতৃত্বে কয়েক ঘণ্টার অনুসন্ধানেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে তার স্ত্রী সালমা বেগম ফুলগাজী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

আরও পড়ুনঃ  সময়মতো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় শিল্পখাতে গ্যাস সংকট: বিটিএমএ সভাপতি, সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক মাস পর ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। গত বছরের ২৯ অক্টোবর একই খালে মাছ ধরতে গিয়ে প্রতিবেশী আবদুল হাই কাইয়ুমের ব্যবহৃত জাল উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার সময় জালটি তার হাতের সঙ্গে বাঁধা ছিল। ফলে এক মাস পর সেটি কীভাবে খুলে পানিতে ভেসে উঠল, সেই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা। জাল উদ্ধারের পর আবারও খালে অনুসন্ধান চালানো হলেও কোনো নতুন আলামত পাওয়া যায়নি।

দীর্ঘদিন ফেনী শহরের সাউথইস্ট ব্যাংকে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন আবদুল কাইয়ুম। পরিবারের সদস্যরা জানান, নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পরই ফেনী রেলগেট এলাকার ইসলামী ব্যাংকে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু সেই নতুন কর্মজীবন আর শুরুই করা হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  দরুদ পড়লে যেভাবে দূর হয় দুশ্চিন্তা

কাইয়ুমের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, “মরে গেলেও যদি তার হাড়গোড়টা পেতাম, তাহলে অন্তত জানতাম মানুষটা আর নেই। এই না পাওয়া, না জানার কষ্টটাই সবচেয়ে বড়। সংসারে এখন আয় করার কেউ নেই। ৮ বছরের পালক সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।”

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন মিয়াজি বলেন, প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও মানুষটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। জাল উদ্ধার হলেও মানুষটির সন্ধান না মেলায় পুরো ঘটনাটি এখনও রহস্য হয়ে আছে।

কাইয়ুমের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম বলেন, কাইয়ুম ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ। কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না। কীভাবে তিনি নিখোঁজ হলেন, তা আজও কেউ বলতে পারছে না। তার পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

আরও পড়ুনঃ  ‘বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দল বললে জ্ঞানের অভাবেরই পরিচয়’—মির্জা ফখরুল

প্রতিবেশী বেলাল হোসেন জানান, জীবনে অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে কাইয়ুমকে। নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই তার রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সবাই হতবাক।

ফুলগাজী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের বর্তমান ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. তারেকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় ডুবুরি দল নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল। কিন্তু সব চেষ্টা সত্ত্বেও আবদুল কাইয়ুমের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তার যোগদানের আগের। তিনি বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানবেন বলে জানিয়েছেন।