ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

মেয়েদের প্রশিক্ষণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:৫৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৫ সময় দেখুন

নওগাঁর মান্দায় মেয়েশিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের নামে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিশেষ বরাদ্দের প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে ভুয়া স্বাক্ষর ও বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বরাদ্দের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। কাগজপত্রে দুই দিনের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অঙ্কের ভাতা দেখানো হলেও বাস্তবে একদিনেই দায়সারাভাবে কর্মসূচি শেষ করা হয়। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নগদ ভাতা না দিয়ে স্যানিটারি প্যাড ও সামান্য নাস্তা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপির বিশেষ বরাদ্দ থেকে ৬৪ জন শিক্ষার্থী ও চারজন প্রশিক্ষকের জন্য মোট ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৭৮ টাকা ব্যয় ধরা হয়। বরাদ্দের হিসাব অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর দৈনিক ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা। দুই দিনের জন্য একজন শিক্ষার্থীর পাওয়ার কথা ৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে চারজন প্রশিক্ষকের দৈনিক ভাতা ৩ হাজার টাকা করে দুই দিনে মোট ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ১০ জন নিয়েও অবিশ্বাস্য কামব্যাক, মানের জোড়া গোলে আল নাসরের নাটকীয় জয়

অভিযোগকারীদের দাবি, নথিপত্রে ৬৪ শিক্ষার্থীর শতভাগ উপস্থিতি দেখানো হলেও গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে বাস্তবে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের কাউকেই নির্ধারিত ভাতা দেওয়া হয়নি। অথচ ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দিনের প্রশিক্ষণের পুরো অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ  সালমান শাহ হত্যা মামলা: জজ আদালতেও ডনের জামিন প্রত্যাখ্যান

মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষিকা পারভীন বেগম বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে তিনজন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। তাদের দুপুরের খাবার ছাড়া কোনো ভাতা দেওয়া হয়নি।

বিদ্যামাধুরী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভারতী রানী বলেন, শিক্ষার্থীদের কোনো ভাতা দেওয়া হয়নি। তাদের খাবারের প্যাকেট ও স্যানিটারি প্যাড দেওয়া হয়েছে। যাতায়াতের জন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার টাকা খরচ দেওয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদিন বলেন, ১৫ জুন এক দিনের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি এক দিনের ভাতা হিসেবে ৩ হাজার টাকা পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, বাজেটে চার প্রশিক্ষকের জন্য দুই দিনের ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও এক দিনের হিসাবে মোট ১২ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  তারেক রহমানকে ‘আমাদের নজরুল’ আখ্যা প্রধান হুইপের

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী বলেন, শিক্ষার্থীদের নগদ ভাতা দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে তাদের স্যানিটারি প্যাড ও খাবার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কিছু অর্থ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যয়, প্রশিক্ষণের প্রকৃত সময়কাল, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং বিল-ভাউচারে ব্যবহৃত স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করা হলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মেয়েদের প্রশিক্ষণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউএনওর বিরুদ্ধে

আপডেটের সময়: ০৮:৫৩:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

নওগাঁর মান্দায় মেয়েশিক্ষার্থীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের নামে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বিশেষ বরাদ্দের প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে ভুয়া স্বাক্ষর ও বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বরাদ্দের টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। কাগজপত্রে দুই দিনের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অঙ্কের ভাতা দেখানো হলেও বাস্তবে একদিনেই দায়সারাভাবে কর্মসূচি শেষ করা হয়। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের নগদ ভাতা না দিয়ে স্যানিটারি প্যাড ও সামান্য নাস্তা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপির বিশেষ বরাদ্দ থেকে ৬৪ জন শিক্ষার্থী ও চারজন প্রশিক্ষকের জন্য মোট ২ লাখ ৯৮ হাজার ২৭৮ টাকা ব্যয় ধরা হয়। বরাদ্দের হিসাব অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর দৈনিক ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা। দুই দিনের জন্য একজন শিক্ষার্থীর পাওয়ার কথা ৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে চারজন প্রশিক্ষকের দৈনিক ভাতা ৩ হাজার টাকা করে দুই দিনে মোট ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ফিতনাসংকুল সময়ে ইমান রক্ষার উপায়

অভিযোগকারীদের দাবি, নথিপত্রে ৬৪ শিক্ষার্থীর শতভাগ উপস্থিতি দেখানো হলেও গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে বাস্তবে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের কাউকেই নির্ধারিত ভাতা দেওয়া হয়নি। অথচ ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দিনের প্রশিক্ষণের পুরো অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ  তারেক রহমানকে ‘আমাদের নজরুল’ আখ্যা প্রধান হুইপের

মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষিকা পারভীন বেগম বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে তিনজন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। তাদের দুপুরের খাবার ছাড়া কোনো ভাতা দেওয়া হয়নি।

বিদ্যামাধুরী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভারতী রানী বলেন, শিক্ষার্থীদের কোনো ভাতা দেওয়া হয়নি। তাদের খাবারের প্যাকেট ও স্যানিটারি প্যাড দেওয়া হয়েছে। যাতায়াতের জন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার টাকা খরচ দেওয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. জয়নাল আবেদিন বলেন, ১৫ জুন এক দিনের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি এক দিনের ভাতা হিসেবে ৩ হাজার টাকা পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, বাজেটে চার প্রশিক্ষকের জন্য দুই দিনের ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও এক দিনের হিসাবে মোট ১২ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সালমান শাহ হত্যা মামলা: জজ আদালতেও ডনের জামিন প্রত্যাখ্যান

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী বলেন, শিক্ষার্থীদের নগদ ভাতা দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে তাদের স্যানিটারি প্যাড ও খাবার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কিছু অর্থ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যয়, প্রশিক্ষণের প্রকৃত সময়কাল, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং বিল-ভাউচারে ব্যবহৃত স্বাক্ষরের সত্যতা যাচাই করা হলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।