ঢাকা ১২:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে জলমগ্ন চট্টগ্রাম, জনজীবন বিপর্যস্ত

মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিনের টানা ভারী বর্ষণে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে সড়ক যোগাযোগ, বিমান চলাচল ও স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল জানান, বৈরি আবহাওয়ার কারণে অবতরণ করতে না পেরে অন্তত তিনটি ফ্লাইট ঢাকায় ফিরে যায়। এছাড়া অন্যান্য ফ্লাইটও ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে চলাচল করেছে।

টানা বর্ষণে নগরীর বিভিন্ন সড়ক, বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ে। গণপরিবহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় ভোগান্তি। পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  বিরোধী দল কিসের বিরোধিতা করে, মানুষই বোঝে না: মান্না

ভারী বৃষ্টির তোড়ে পতেঙ্গা এলাকার একটি বাইপাস সড়কের অংশ ভেঙে যায়। জানা গেছে, ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের বিকল্প হিসেবে নির্মিত ওই সড়কটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ঝড়ো বাতাসে নগরীর বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ।

আরও পড়ুনঃ  ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে বিএনপি: মির্জা ফখরুল

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ভারতের দিকে সরে গেলেও আগামী দুই থেকে তিন দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বুধবার থেকে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে। নদী ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, ফরিদারপাড়া, চান্দগাঁও, চকবাজার, কাট্টলী, হালিশহরের কে ও এল ব্লক, সোনালি, বসুন্ধরা, রামপুর ও আনন্দীপুর আবাসিক এলাকায়। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া ভারতের পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত: রিজভী

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন জলাবদ্ধতা কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত পানি নিষ্কাশনের নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, “বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন খাল সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এবং সিটি করপোরেশন যৌথভাবে কাজ করছে। বৃষ্টি থেমে গেলে নিচু এলাকাগুলোর পানি এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে নেমে যাবে।”

এদিকে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে পাহাড়ধসের কোনো ঘটনা না ঘটলেও খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী ইউনিটগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিতে জলমগ্ন চট্টগ্রাম, জনজীবন বিপর্যস্ত

আপডেটের সময়: ০৮:০৪:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিনের টানা ভারী বর্ষণে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে সড়ক যোগাযোগ, বিমান চলাচল ও স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল জানান, বৈরি আবহাওয়ার কারণে অবতরণ করতে না পেরে অন্তত তিনটি ফ্লাইট ঢাকায় ফিরে যায়। এছাড়া অন্যান্য ফ্লাইটও ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে চলাচল করেছে।

টানা বর্ষণে নগরীর বিভিন্ন সড়ক, বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ে। গণপরিবহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় ভোগান্তি। পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  বিরোধী দল কিসের বিরোধিতা করে, মানুষই বোঝে না: মান্না

ভারী বৃষ্টির তোড়ে পতেঙ্গা এলাকার একটি বাইপাস সড়কের অংশ ভেঙে যায়। জানা গেছে, ফ্লাইওভার নির্মাণকাজের বিকল্প হিসেবে নির্মিত ওই সড়কটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ঝড়ো বাতাসে নগরীর বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ায় সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ প্রস্তুত রয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ।

আরও পড়ুনঃ  শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া ভারতের পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত: রিজভী

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ভারতের দিকে সরে গেলেও আগামী দুই থেকে তিন দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বুধবার থেকে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে। নদী ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, ফরিদারপাড়া, চান্দগাঁও, চকবাজার, কাট্টলী, হালিশহরের কে ও এল ব্লক, সোনালি, বসুন্ধরা, রামপুর ও আনন্দীপুর আবাসিক এলাকায়। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বিয়ের দাওয়াতে মাংস কম, আপত্তি থেকে সংঘর্ষে আহত ৩

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন জলাবদ্ধতা কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত পানি নিষ্কাশনের নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, “বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন খাল সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এবং সিটি করপোরেশন যৌথভাবে কাজ করছে। বৃষ্টি থেমে গেলে নিচু এলাকাগুলোর পানি এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে নেমে যাবে।”

এদিকে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে পাহাড়ধসের কোনো ঘটনা না ঘটলেও খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে পৃথক দুটি পাহাড়ধসের খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী ইউনিটগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।